Logo
Logo
×

রাজধানী

ঢামেকের বাথরুমে তরুণীর মরদেহ

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম

ঢামেকের বাথরুমে তরুণীর মরদেহ

ছবি-সংগৃহীত

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের একটি বাথরুম থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর রক্তাক্ত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের ১১০ ও ১১১ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝামাঝি স্থানে থাকা বাথরুমের ৪ নম্বর কক্ষ থেকে ওই নারীর মরদেহ পাওয়া যায়।

আনুমানিক ২৮ বছর বয়সী ওই নারী আত্মহত্যা করেছেন নাকি তাকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত করতে পারেনি কেউ। তবে মরদেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা আগে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের কনফারেন্স রুমের দ্বিতীয় গেটের সামনে একটি রক্তমাখা ফল কাটার ছুরি এবং আশপাশে রক্তের দাগ পাওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টার দিকে দৈনিক ভিত্তিতে কর্মরত পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাহমুদ শেখ বাথরুম পরিষ্কার করতে যান। নিয়ম অনুযায়ী তিনি ভেতরের কক্ষগুলোর দরজায় নক করে অবস্থানকারীদের বের হয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। তবে ৪ নম্বর কক্ষের দরজায় একাধিকবার নক করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। পরে সন্দেহ হলে মাহমুদ শেখ তার সহকর্মী রাসেল ও কামালকে ডেকে আনেন। একপর্যায়ে দরজা খোলা হলে ভেতরে ওই নারীকে রক্তাক্ত ও ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। পরে বিষয়টি আনসার সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। খবর পেয়ে শাহবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাহমুদ শেখ বলেন, ৪ নম্বর কক্ষটির দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। পরে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই নারীকে দেখার পর তারা দ্রুত আনসার সদস্য ও সর্দারকে বিষয়টি জানান।

মরদেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা আগে একই দিন ভোরে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের কনফারেন্স রুমের দ্বিতীয় গেটের সামনে রক্তমাখা একটি কালো স্টিলের ফল কাটার ছুরি পড়ে থাকতে দেখা যায়। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাশী সন্তোষ প্রথম ছুরিটি দেখতে পান।

সন্তোষ জানান, রক্তভেজা অবস্থায় ছুরিটি পড়ে থাকতে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে তিনি ওই স্থান পরিষ্কার করেন। পরে ছুরিটি ধুয়ে নিজের কাছে রেখে দেন। ঘটনার চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর ১১০ ও ১১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাথরুমে একজনের মরদেহ পাওয়ার কথা জানতে পারেন তিনি।

ঢামেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. শায়লা ফেরদৌস আহসান জানান, সকালে হাসপাতালে এসে তিনি বাথরুমে ঝুলন্ত মরদেহের খবর পান। পরে কনফারেন্স রুমের সামনে রক্ত ও ছুরি উদ্ধারের বিষয়টিও সামনে আসে।

তিনি বলেন, হাসপাতালে প্রতিদিন প্রচুর রোগী আসায় অনেক সময় মেঝেতে রক্ত পড়ে থাকে। ফলে শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল, কোনো রোগী বা সংঘর্ষের কারণে এই রক্ত পড়তে পারে। পরে ক্লিনার মেঝে পরিষ্কার করেন। ওই এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

এদিকে ওই নারীর ব্যাগে থাকা ডাচ বাংলা ব্যাংকের একটি ব্যাংকের কাগজ পাওয়া যায়। ওই ব্যাংক ডকুমেন্টে তন্ময় মণ্ডল নামে একজনের নাম পাওয়া যায়।

শাহবাগ থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাই। পরে সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিটও ঘটনাস্থলে আসে। তার ব্যাগে পাওয়া একটি চিরকুট পাওয়া যায় সেখানে তন্ময় মণ্ডল লেখা পাওয়া যায় এবং একটি ব‍্যাংক ডকুমেন্ট পাওয়া যায় সেখানে তন্ময় মণ্ডল লেখা পাওয়া যায়। আমরা প্রাথমিকভাবে ওই নারীর নাম পেয়েছি ঝুমা রানী দে তবে এখনো কনফার্ম হতে পারিনি। ঘটনাস্থল ও আশপাশের আলামত সংগ্রহ এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা চলছে।

প্রধান সম্পাদক- আ.ত.ম. শামসুজ্জামান

ইশা ফাউন্ডেশন’র একটি প্রকাশনা

অনুসরণ করুন