Logo
Logo
×

সারাদেশ

গাজীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিবকে বহিষ্কার দাবি

Icon

গাজীপুর সংবাদদাতা

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম

গাজীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিবকে বহিষ্কার দাবি

ছবি-সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গাজীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব চৌধুরী ইশরাক আহম্মেদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে। দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জন্য কাজ করায় তাকে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার দাবি জানিয়ে দলীয় চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

গাজীপুর-১ আসনের প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মো. হুমায়ূন কবীর খাঁন গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) আবেদনটি করেছেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক। আবেদনটি দলীয় মহাসচিবের মাধ্যমে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। 

এতে অভিযোগ করা হয়, নির্বাচনে গাজীপুর-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী। তিনি প্রকাশ্যে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী শাহ আলম বকশীর পক্ষে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জন্য কাজ করেছেন। এমনকি তার সমর্থিক নেতাকর্মীদেরও একই নির্দেশ দিয়েছেন।

লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন শুরুর পর থেকেই তিনি দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’-এর বিপক্ষে অবস্থান নেন এবং অনুসারীদের নিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এমনকি ভোটের দিন জামায়াত প্রার্থীর সঙ্গে আলিঙ্গনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং ভোটে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

এছাড়া অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়, পূর্বে জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব থাকাকালে কালিয়াকৈর উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি গঠনে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩৬ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ বিষয়েও আগে দলীয় চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, কালিয়াকৈর উপজেলার বলিয়াদি  এলাকার গাজীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইশরাক আহমেদ সিদ্দীকির বাড়ি। স্বাধীনতার পর থেকে বিএনপির কখনো এই আসন থেকে জয়লাভ না করলেও বালিয়াদি কেন্দ্রে সবসময় বিএনপির প্রার্থী বিপুল ভোট পেলেও এবারের নির্বাচনে সেখানে ধানের শীষ পরাজিত হয়। এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে-ইশরাক সিদ্দিকী জামায়াত প্রার্থীর কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করে তা অনুসারী ও ভোটারদের মাঝে বিতরণ করেছেন। 

আবেদনকারীরা আরও দাবি করেন, সদস্য সচিবের সহোদর ইরাদ আহাম্মেদ সিদ্দিকীকে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে রাখার মাধ্যমে দলীয় প্রার্থীকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান চেয়ারম্যান সম্পর্কে কটুক্তির অভিযোগও তোলা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সদস্য সচিবের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকেও এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

প্রধান সম্পাদক- আ.ত.ম. শামসুজ্জামান

ইশা ফাউন্ডেশন’র একটি প্রকাশনা

অনুসরণ করুন