Logo
Logo
×

সারাদেশ

গান-বাজনা ‘নিষিদ্ধ’ করে গ্রামজুড়ে মসজিদ কমিটির নোটিশ

Icon

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংবাদদাতা

প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:২০ পিএম

গান-বাজনা ‘নিষিদ্ধ’ করে গ্রামজুড়ে মসজিদ কমিটির নোটিশ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের তেররশিয়া-পোড়াগ্রামে মাইকে গান ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এলাকাজুড়ে নোটিশ সাঁটিয়েছে একটি মসজিদ কমিটির লোকজন। মসজিদ কমিটির কয়েকজন এই সিদ্ধান্ত নিলেও নোটিশ সাঁটানো হয়েছে পোড়াগ্রাম এলাকাবাসীর নামে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মসজিদ কমিটির লোকজন তাদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে ‘সমাজ রক্ষা কমিটি’ নামের একটি সংগঠন দাঁড় করিয়েছে। এই সংগঠন থেকে গত দুই মাস ধরে ওই গ্রামে তাদের সিদ্ধান্ত কার্যকর করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

গ্রামের বিভিন্ন স্থানে সাঁটানো নোটিশটিতে লেখা আছে—“এতদ্বারা পোড়াগ্রামবাসীর পক্ষ থকে জানানো যাচ্ছে যে, আমরা আমাদের গ্রামের পরিবেশ, যুবসমাজের নৈতিকতা এবং পারিবারিক শান্তি রক্ষার জন্য গ্রামের গণসম্মতির ভিত্তিতে শিরক, বিদ’আত, গান-বাজনা ও অপসংস্কৃতি ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম ও ক্ষতিকর হওয়ায় গ্রামের সামাজিক কল্যাণের স্বার্থে আজ থেকে আমাদের গ্রামে প্রকাশ্যে উচ্চশব্দে বাদ্যযন্ত্র বা গান-বাজনা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো। এরপরও যারা বাদ্যযন্ত্র বাজাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই নিষেধাজ্ঞার কড়াকড়ি শুধু স্থানীয় বাসিন্দা, গ্রামের বিয়ে বাড়ি এবং গ্রামে বনভোজনের মতো সামাজিক অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ভ্রাম্যমাণ ফেরিওয়ালারাও এর আওতায় পড়ছেন।

গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী জানান, এই গ্রামে বিয়ে বাড়িতে গান-বাজনা হবে না। যদি গান-বাজনা হয়, তাহলে মৌলভী বিয়ে পড়াতে যাবে না ওই বাড়িতে।

আরেক বাসিন্দা জুবায়ের আহমেদ বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে গান-বাজনা হারাম। আল্লাহ ও রাসুলকে চেনার জন্য গান-বাজনা দূরে রাখতে হবে।

গান-বাজনা নি দ্ধি করে তা বাস্তবায়নে গঠিত কমিটির সদস্য মনিরুল ইসলাম নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, হুজুরের পদক্ষেপে গ্রামের সব যুবক ও বয়স্করা উদ্যোগ নিয়েছি আমাদের এলাকাতে গান-বাজনা বাজাতে দেব না।

এ উদ্যোগের বিষয়ে তেররশিয়া-পোড়াগ্রাম জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেক বিন খলিলুর রহমান বলেন, “আমাদের পৃথিবীতে আসা ও আলেম হিসেবে দায়িত্ব সমাজ সংস্কার করা। বিপথগামী মানুষকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য যেহেতু আর কোনো নবী-রাসুল আসবেন না। কাজেই আলেম সমাজকেই অপসংস্কৃতি দূর করতে পদক্ষেপ নিতে হবে। এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে গ্রামে গান-বাজনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।”

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সমালোচনার মুখে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ব্যানার ও নোটিশগুলো অপসারণ করেছে বলে জানান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ। তিনি জানান, ঘটনাটি নজরে আসার পর পুলিশ পাঠিয়ে ব্যানার এবং নোটিসগুলো অপসারণ করা হয়েছে। ওরা যেসব কাগজে লেখালেখি করছিল তা নিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফ আফজাল রাজন বলেন, মসজিদ কমিটিকে সভা করে লিখিতভাবে গান-বাজনা নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে। 

প্রধান সম্পাদক- আ.ত.ম. শামসুজ্জামান

ইশা ফাউন্ডেশন’র একটি প্রকাশনা

অনুসরণ করুন