Logo
Logo
×

সারাদেশ

ভোলার লালমোহনে বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত বসতঘর

Icon

ভোলা সংবাদদাতা

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম

ভোলার লালমোহনে বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত বসতঘর

ছবি-সংগৃহীত

ভোলার লালমোহন উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের করতোয়া আবাসন এলাকায় রিং বেড়িবাঁধের একাধিক স্থানে ভাঙন দেখা দেওয়ায় জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হচ্ছে শত শত বসতঘর। পানির তোড়ে ভেসে গেছে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি। প্রায় দেড় বছর ধরে এমন দুর্ভোগ চললেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দ্রুত বেড়িবাঁধ সংস্কার এবং সিসি ব্লক দিয়ে টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত করতোয়া আবাসন প্রকল্পটি প্রায় দুই যুগ আগে নির্মিত হয়। তেতুলিয়া নদীর তীরবর্তী মানুষের বসতভিটা জোয়ার ও জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষার জন্য প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ একটি উঁচু রিং বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। সর্বশেষ ২০২২ সালে বাঁধটির সংস্কার করা হলেও এরপর আর কোনো সংস্কার হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় দেড় বছর আগে অস্বাভাবিক জোয়ারের তীব্র চাপে বাঁধের প্রায় ৪০০ মিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে ৭ থেকে ৮টি স্থানে বড় ধরনের ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। ফলে জোয়ার এলেই নদীর পানি আবাসনের ভেতরে ঢুকে ঘরবাড়ি তলিয়ে যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা আসমা আক্তার ও শাহানুর বেগম জানান, জোয়ারের সময় ঘরে পানি ঢুকে পড়লে পরিবারের সবাইকে খাটের ওপর আশ্রয় নিতে হয়। পানি নামতে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে। এতে রান্নার চুলা নষ্ট হয়ে যায় এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতিতে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কেউ তাদের খোঁজ নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

একই এলাকার বিউটি বেগম ও জান্নাত বেগম বলেন, বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর জোয়ারের পানিতে তাদের গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগি ভেসে গেছে। এতে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল রাজ্জাক ও মো. শাহিন জানান, করতোয়া আবাসনে প্রায় ২৬০টি পরিবারে দেড় হাজারের বেশি মানুষ বসবাস করেন। তাদের নিরাপত্তার জন্য নির্মিত রিং বেড়িবাঁধটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও কোনো কার্যকর সংস্কার হয়নি। বর্ষা মৌসুমে আকাশে মেঘ দেখলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না হলে বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা করছেন তারা।

এ বিষয়ে ভোলা পানি উন্নয়ন বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা জানান, রিং বাঁধের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ৩০০ মিটার এলাকা ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ২০০ মিটার এলাকায় ২ হাজার ৭৩৫টি জিও ব্যাগ ফেলা এবং মাটি ভরাটের কাজ করা হবে। খুব শিগগিরই এ কাজ শুরু হবে। পরবর্তীতে বাকি ক্ষতিগ্রস্ত অংশের সংস্কারও পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি জানান।

প্রধান সম্পাদক- আ.ত.ম. শামসুজ্জামান

ইশা ফাউন্ডেশন’র একটি প্রকাশনা

অনুসরণ করুন