ভাঙা হচ্ছে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য
ঝিনাইদহ সংবাদদাতা
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম
ছবি-সংগৃহীত
ঝিনাইদহ জেলা শহরের প্রবেশদ্বারে নির্মিত ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর’ ও ভাস্কর্যটি গত কয়েক দিন ধরে ভেঙে ফেলা হচ্ছে। তবে সরকারি কোনো সংস্থাই এই ভাঙার কাজের দায় নিচ্ছে না। কে বা কারা এটি ভাঙছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সবাই অজ্ঞতা প্রকাশ করায় স্থানীয় বাসিন্দা ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকজন শ্রমিক চত্বরটি ভাঙার কাজ করছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বিস্তারিত কিছু না বলে পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
ঝিনাইদহ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ আলী খান বলেন, এটি কেন ভাঙা হচ্ছে তা আমার জানা নেই। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ভালো বলতে পারবেন।
ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন জানান, জেলা প্রশাসন এই স্থাপনা ভাঙছে না। তবে তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ভাস্কর্যটি ওই জায়গা থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সম্ভবত সড়ক বিভাগ ও পৌরসভা সেই সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন করছে। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ লাইন্সের সামনে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের একটি নতুন প্রতিকৃতি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
জেলা প্রশাসকের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কারা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে এই ভাস্কর্য ও চত্বরটি অপসারণ করছে, তা আমার জানা নেই।
জেলা পরিষদের প্রশাসক এম মাজিদ জানান, ভাস্কর্যটির নকশাগত ত্রুটির কারণে সেটি আসলে কী বোঝাতে চেয়েছিল, তা নির্ধারণ করা কঠিন ছিল। এ ছাড়া এটি ওই এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীরাও এটি দুই দফায় ভাঙচুর করে। তিনি বলেন, কয়েকটি সভায় এটি সরানোর সিদ্ধান্ত হলেও ভাঙার দায়িত্ব নিতে কেউ রাজি ছিল না। এখন কারা এটি ভাঙছে, তা আমি জানি না।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান শুধু ঝিনাইদহের নন, পুরো দেশের গর্ব। দেশের জন্য তিনি জীবন উৎসর্গ করেছেন। শহরের প্রবেশদ্বারে তার নামের চত্বরটি থাকলে নতুন প্রজন্ম ও দর্শনার্থীরা তার অবদান সম্পর্কে জানতে পারত। এটি এভাবে ভেঙে ফেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
২০১৯ সালে ঝিনাইদহ পৌরসভা ৩০ ফুট উচ্চতা ও ১০ ফুট প্রস্থের এই চত্বরটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু দীর্ঘদিনের অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্থাপনাটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি, উল্টো আগাছায় ঢেকে গিয়েছিল।

