জামায়াত এমপির ভাইরাল ভিডিও
‘মরিয়ম আমার দ্বিতীয় স্ত্রী’ বললেন গাজী নজরুল
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম
ছবি-সংগৃহীত
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ব্যক্তিগত ভিডিও নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ভিডিওতে থাকা তরুণী, তার বাবা, গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী এবং জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে পৃথক বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার
(২১ জুলাই) প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মোসাম্মৎ মাকছুদা
বেগম বলেন, ভিডিওতে থাকা মরিয়ম বেগম তার স্বামীর ‘দ্বিতীয়
স্ত্রী’। বিষয়টি নিয়ে যারা ‘কুৎসা রটাচ্ছেন’, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও
দেন তিনি।
তিনি
বলেন, আমি মাকছুদা ইসলাম। আমার স্বামী গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়ম বেগমের বিয়ে
হয়েছে। এটা নিয়ে যারা কুৎসা রটাচ্ছে, তাদের প্রতি তীব্র প্রতিবাদ জানাই। বিরত না থাকলে
আমি আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।
ভিডিওতে
থাকা তরুণীর নাম মরিয়ম খাতুন। তিনি দাবি করেন, গাজী নজরুল ইসলাম তার স্বামী এবং তাদের
বিয়ে হয়েছে। মরিয়ম জানান, সম্প্রতি তারা তার বাবার মগবাজারের অফিসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন,
সেখান থেকেই ভিডিওটি ধারণ করা হয়।
মরিয়ম
আরও জানান, তিনি চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন।
মরিয়মের
বাবা মাসুম বিল্লাহ বলেন, গত ১৭ জুন তিন লাখ টাকা দেনমোহরে তার মেয়ের সঙ্গে গাজী নজরুল
ইসলামের বিয়ে সম্পন্ন হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সঙ্গে তার শ্যালক ওবায়দুল্লাহ জড়িত,
যিনি তার অফিসে সহকারী হিসেবে কাজ করতেন।
সাতক্ষীরা
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও দলটির মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মাওলানা আজিজুর
রহমান বলেন, গাজী নজরুল ইসলাম তাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী
এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এ বিয়ে হয়েছে।
তিনি
বলেন, ভিডিওটি কীভাবে এবং কার মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা খতিয়ে
দেখা হচ্ছে। তবে দ্বিতীয় বিয়ের নির্দিষ্ট তারিখ তার জানা নেই বলে জানান তিনি।
এদিকে
ভাইরাল ভিডিও প্রসঙ্গে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, গত ১৩
জুলাই তিনি তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা
মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিসে যান।
তার
অভিযোগ, সেখানে অবস্থানকালে তার চালক এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ বাইরে গিয়ে
কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে এসে তাদের জিম্মি করেন। এ সময় এক লাখ টাকা আদায় করা
হয় এবং পরে আরও কয়েক লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের হুমকি
দেওয়া হয়।
তিনি
আরও দাবি করেন, মাসুম বিল্লাহ ও ওবায়দুল্লাহর পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটে।
ওই সময় স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও গোপনে ধারণ করে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
গাজী
নজরুলের ভাষ্য, কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভিডিওটিকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক হিসেবে
প্রচার করছেন, যা তার দাবি অনুযায়ী ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’।
তবে
ভিডিওটি কীভাবে ধারণ ও প্রকাশ করা হয়েছে কিংবা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অভিযোগ ও পাল্টা
দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর
আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা আদালতের কোনো সিদ্ধান্তের তথ্যও এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি।

