গভীর রাতে সাংবাদিক দেবাশীষ ও ছেলের সমাধিস্থ, স্ত্রী ও শ্বশুরের দাফন সম্পন্ন
কুষ্টিয়া সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:১২ পিএম
কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের পরিবারের চার সদস্যের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) গভীর রাতে সাংবাদিক দেবাশীষ ও তার শিশুপুত্রকে ধর্মীয় বিধি অনুযায়ী সমাধিস্থ করা হয়। অন্যদিকে তার স্ত্রী ও শ্বশুরের জানাজা শেষে কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
মৃত্যুর প্রায় ৯২ ঘণ্টা পর শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চারজনের মরদেহ কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া বাহাদুর আলী বিশ্বাস সড়কের নিজ বাসায় পৌঁছায়। মরদেহ পৌঁছানোর পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজন, সহকর্মী সাংবাদিক ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয় তাদের।
পরে শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তার শিশুপুত্র শর্ণশীষ দত্তের মরদেহ কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সমাধিস্থ করা হয়।
অন্যদিকে রাত আড়াইটার দিকে দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমিন ও তার বাবা আকরাম হোসেনের জানাজা কুষ্টিয়া শহরের কুঠিপাড়ায় অবস্থিত সদর উপজেলা মডেল মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাদের কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে দাফন করা হয়।
পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুতে কুষ্টিয়াজুড়ে নেমে এসেছে শোকের আবহ। মরদেহ দেখতে স্বজন ও এলাকাবাসীর ভিড় জমে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কাজ করতে হয়। মানুষের উপস্থিতিতে আড়ুয়াপাড়ার ব্যস্ত মীর মশাররফ হোসেন সড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
দেবাশীষ দত্ত তার স্ত্রী আফসানা শারমিন ও সন্তানদের নিয়ে গত ৩ আগস্ট চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতের বেঙ্গালুরুতে যান। সেখানে চিকিৎসা শেষে ১৮ আগস্ট তারা কলকাতায় পৌঁছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই হোটেলে ওঠেন। পরদিন তাদের কুষ্টিয়ায় ফেরার কথা ছিল। তবে ১৮ আগস্ট রাতে হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পরিবারের চার সদস্য নিহত হন।
নিহত দেবাশীষ দত্ত দৈনিক আজকের কাগজ ও চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার সম্পাদকও ছিলেন।
দেবাশীষের শ্বশুর আকরাম হোসেন ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) কুষ্টিয়া শাখার কর্মচারী ছিলেন। ২০২০ সালে চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি পরিবার নিয়ে কুষ্টিয়ায় বসবাস করতেন।
পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্বজন, সহকর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

