চাঁদপুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসসহ পরিবারের ৪ সদস্য নিখোঁজ, খুঁজছে পুলিশ
চাঁদপুর সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
ছবি-সংগৃহীত
চাঁদপুর শহরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও ‘এসকে শিল্পালয়’-এর সত্ত্বাধিকারী পিন্টু দাসসহ তার পরিবারের চার সদস্য রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ রয়েছেন। গণমাধ্যমে নিখোঁজের খবর প্রকাশের পর তাদের সন্ধানে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম তৎপরতা শুরু করেছে।
নিখোঁজ অন্য তিনজন হলেন পিন্টু দাসের স্ত্রী রিমি দাস, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী বড় ছেলে প্রিয়ম দাস এবং ছোট ছেলে রুপম দাস। বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত পর্যন্ত তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পিন্টু দাস শহরের হোল্ডিং নম্বর ৫৮-এর সৌরভিলা ভবনের চতুর্থ তলায় ভাড়া থাকতেন। সরেজমিনে তার বাসা তালাবদ্ধ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে মদিনা মার্কেটে অবস্থিত তার জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান ‘এসকে শিল্পালয়’ও বন্ধ রয়েছে। পরিবারের চার সদস্যের এমন আকস্মিক নিখোঁজের ঘটনায় শহর ও ব্যবসায়ী মহলে নানা আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
দেনা-পাওনার বিষয়টি সামনে আসছে
নিখোঁজের ঘটনায় পিন্টু দাসের ব্যবসায়িক দেনা-পাওনার বিষয়টিও সামনে এসেছে। আবুল বারাকাত লিজন পাটোয়ারী নামে এক ব্যক্তি দাবি করেছেন, স্বর্ণালঙ্কার বাবদ পিন্টু দাসের কাছে তার ৬ লাখ টাকার বেশি পাওনা রয়েছে। এ বিষয়ে স্ট্যাম্পে চুক্তি রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট পাওনা টাকা চাইলে পিন্টু দাস ২০ দিনের সময় নেন। এর পর থেকেই পিন্টু দাস ও তার পরিবারের সদস্যদের আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
চাঁদপুর জুয়েলারি সমিতির সাধারণ সম্পাদক মানিক পোদ্দার বলেন, পিন্টু দাস সমিতির একজন সাধারণ সদস্য ছিলেন, তবে কার্যকরী কমিটির সদস্য নন। তিনি বলেন, পিন্টু দাস নিখোঁজ নাকি আত্মগোপনে রয়েছেন, তা পুলিশ তাদের উদ্ধারের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। প্রাথমিকভাবে তার বিভিন্ন দেনা-পাওনার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
বন্ধকী স্বর্ণ ব্যবসা নিয়ে অভিযোগ
জানা গেছে, পিন্টু দাস স্বর্ণ বন্ধক রেখে ঋণ দেওয়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অনেক গ্রাহকের গচ্ছিত স্বর্ণালঙ্কার ফেরত দিতে পারছিলেন না তিনি। ব্যবসার প্রয়োজনে বিভিন্ন সমিতি থেকেও ঋণ নিয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে কয়েকজন ব্যক্তি পিন্টু দাসের কাছে টাকা পাওয়ার দাবি করেছেন। তবে এসব অভিযোগ ও দেনা-পাওনার প্রকৃত পরিমাণ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পিন্টু দাসের বাড়িওয়ালা রাসেল জানান, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বাসাটি ভাড়া নেওয়ার পর তিনি নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করতেন এবং তার আচরণও ভালো ছিল। তবে সম্প্রতি তার বাসায় পাওনাদারদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় তিনি কিছুটা উদ্বিগ্ন ছিলেন। পরে হঠাৎ করেই বাসাটি তালাবদ্ধ দেখতে পান।
চাঁদপুর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক উপমা দে বলেন, পিন্টুরা তাদের দূরসম্পর্কের আত্মীয়। পরিবারের চার সদস্যের এমন নিরুদ্দেশ হওয়া তাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
একাধিক টিমের তৎপরতা
চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বলেন, পিন্টু দাসের মূল বাড়ি চট্টগ্রামে এবং তার স্ত্রীর বাড়ি কুমিল্লায়। নিখোঁজ চারজনকে উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
তিনি বলেন, “ঘটনাটি দেনার দায়ে আত্মগোপনের ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা পরিবারটিকে উদ্ধার করার পরই পরিষ্কার হবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ পরিবারের সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্ত করতে বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তাদের দ্রুত খুঁজে বের করে নিখোঁজের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।

