১ সেপ্টেম্বর খুলছে সুন্দরবন, ঋণের বোঝা নিয়ে বনে ফিরছেন জেলেরা
খুলনা সংবাদদাতা
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২২ পিএম
ছবি-সংগৃহীত
টানা তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামীকাল ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনে আবারও প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে বন বিভাগ। প্রজনন মৌসুমে মাছ ও বন্যপ্রাণীর নির্বিঘ্ন বিচরণ নিশ্চিত করতে গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশাধিকার বন্ধ ছিল।
নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার খবরে কয়রার মহেশ্বরীপুর, উত্তর বেদকাশী, দক্ষিণ বেদকাশীসহ বিভিন্ন এলাকার জেলেরা বনে যাওয়ার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ ভাঙা নৌকা মেরামত করছেন, কেউ নতুন কাঠ লাগাচ্ছেন, আবার কেউ জাল সেলাই ও দড়ি-দড়া বাঁধার কাজে ব্যস্ত।
উত্তর বেদকাশী গ্রামের প্রবীণ জেলে মোজাফফর বলেন, প্রায় ৪২ বছর ধরে সুন্দরবনে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন। বন বন্ধ থাকায় গত তিন মাস তাদের আয়-রোজগার বন্ধ ছিল। পর্যাপ্ত সহায়তাও পাননি তারা। তাই বন খুললেই আবার জীবিকার তাগিদে বনে নামতে হবে।
জেলেরা জানান, বনে যাওয়ার আগেই একটি নৌকায় চাল-ডাল, জ্বালানি, জাল ও পারমিটসহ বিভিন্ন খাতে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। এ অর্থের বড় অংশই তাদের নিতে হয় চড়া সুদে মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে। ফলে মাছ কম পাওয়া গেলে ঋণের বোঝা আরও বাড়ে।
কয়রার মৎস্য ব্যবসায়ী মো. কামরুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে যাওয়া বনজীবীদের জন্য শুধু কর্মসংস্থানের বিষয় নয়, এটি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জীবিকা অর্জনের চেষ্টা। মাছ পাওয়ার অনিশ্চয়তার পাশাপাশি বাঘের আক্রমণের ভয়ও রয়েছে।
তবে এবার জেলেদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে সম্ভাব্য বনদস্যু ও জলদস্যুদের তৎপরতা নিয়ে। বাঘের পাশাপাশি দস্যুদের আশঙ্কাও তাদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এজেডএম হাছানুর রহমান জানান, ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। জেলেদের পারমিট দেওয়ার সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গিয়ে তারা যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

