নষ্ট দুধ খেয়ে হাসপাতালে ৫০ শিক্ষার্থী
ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম
শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। ছবি- সপ্র
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় মিড ডে মিলের দুধ খেয়ে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
অসুস্থ শিক্ষার্থীদের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে কোনো শিক্ষার্থীর অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, দুপুরে খেলাধুলা শেষে স্কুল থেকে দেওয়া দুধ পান করার পর তাদের পেটব্যথা ও বমি শুরু হয়। পরে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নাসরিন বলেন, দুধ খাওয়ার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী স্বাদ টক লাগার কথা জানায়। পরে প্যাকেট খুলে দেখা যায়, দুধ নষ্ট হয়ে দইয়ের মতো হয়ে গেছে। তবে বিষয়টি বুঝে নিষেধ করার আগেই অনেকে দুধ পান করে ফেলে।
তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে মোট ১২৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। সকালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ছুটি হয়ে যাওয়ায় তাদের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি। দুপুরে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা দুধ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাফি চৌধুরী বলেন, প্যাকেটের গায়ে দুধের মেয়াদ ঠিক ছিল। তবে ভেতরের দুধ নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি বাইরে থেকে বোঝার উপায় ছিল না। দুধ পান করে প্রায় ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অভিভাবকদের অভিযোগ, শিশুদের নষ্ট দুধ সরবরাহ করা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় দুধ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা প্রতিনিধি আবু হেলাল বলেন, তারা স্কুলে আরডি কোম্পানির দুধ সরবরাহ করেন। দুধ দেওয়ার সময় শিক্ষকদের বলা হয়, কোনো দুধ নষ্ট বা ফাটা থাকলে যেন তা শিশুদের খাওয়ানো না হয়। ঘটনার এক দিন আগেই স্কুলে দুধ সরবরাহ করা হয়েছিল। কী কারণে এমনটি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায় বলেন, শিক্ষার্থীদের দ্রুত সুস্থ করে তুলতে স্থানীয় প্রশাসনসহ তারা সার্বিকভাবে বিষয়টি তদারকি করছেন।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নিশাত রায় বলেন, দুপুরে পেটব্যথা ও বমির উপসর্গ নিয়ে বেশ কয়েকজন শিশু শিক্ষার্থী হাসপাতালে আসে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কারও অবস্থাই আশঙ্কাজনক নয়।

