কমলগঞ্জে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে আটকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৬ পিএম
ছবি- সপ্র
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বাড়ি থেকে নিয়ে কয়েক দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সড়কের পাশে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবার করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার আরও এক আসামি পলাতক রয়েছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কলিমাবাদ ও গিয়াসনগর এবং রাজনগর উপজেলার গাঙপার এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের হাসানপুর গ্রামের মো. জাহেদ আহমেদ (২৪), রাজনগর উপজেলার খারপাড়া গ্রামের রাজু আহমেদ (২২) এবং একই উপজেলার বাহাদুরগঞ্জ গ্রামের জুবেল মিয়া (৩০)। মামলার অপর আসামি রাজনগর হাসপাতাল এলাকার কবির (৩০) পলাতক রয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জাহেদ আহমেদের সঙ্গে মুঠোফোনে ওই শিক্ষার্থীর পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর সূত্র ধরে গত ১২ সেপ্টেম্বর বিকেলে তাঁকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে মৌলভীবাজার শহরের চাঁদনীঘাট এলাকা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তাঁকে রাজনগরের বাহাদুরগঞ্জে জুবেল মিয়ার বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই শিক্ষার্থীকে জাহেদের বাড়িতে আটকে রাখা হয়। সেখানে তাঁর ওপর নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে কমলগঞ্জের রহিমপুর ইউনিয়নের একটি সড়কের পাশে তাঁকে রেখে যাওয়া হয়।
পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কমর উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মামলা দায়েরের পর প্রায় ২০ ঘণ্টার অভিযানে এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পলাতক আসামি কবিরকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

