Logo
Logo
×

সারাদেশ

টাঙ্গাইলে ১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশের ব্যবহার

Icon

বাসাইল (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৭ পিএম

টাঙ্গাইলে ১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশের ব্যবহার

ছবি-সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের বাসাইলে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর পাটাতনের পাশের অংশ বা ফুটপাতের ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে সেতুটির ওই অংশে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের দৃশ্য দেখা যায়। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন।

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বাসাইল জিসি-কাউলজানি ইউপি অফিস হয়ে মাইজখারা জিপিএস সড়কে মোড়াগাং খালের ওপর ৯০ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ গার্ডার সেতুটি পুনর্নির্মাণের কাজ পেয়েছে ‘মেসার্স ইউনুস আল মামুন-মেসার্স জাকির’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৯ লাখ টাকা।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। বর্তমানে সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আজিজ মিয়া বলেন, সেতুর নির্মাণকাজ দিনের বেলায় চলার কথা থাকলেও কিছুদিন ধরে রাতে কাজ করা হচ্ছিল। স্থানীয়রা লক্ষ্য করেন, সেতুর ডেক বা পাটাতনের পাশের অংশের ফুটপাত বা সাইডওয়াকের কংক্রিট ঢালাইয়ের সময় বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘মূলত বালি, সিমেন্ট ও বাঁশ দিয়েই এই অংশটি নির্মাণ করা হচ্ছিল।’

তবে বাঁশ দিয়ে ছাঁচ তৈরির বিষয়টি স্বীকার করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার শরিফুল ইসলাম। তাঁর দাবি, সরু ফাঁকগুলোর ভেতর থেকে শাটারিং অপসারণের সুযোগ না থাকায় সেখানে বাঁশ ও সিমেন্টের বস্তা দিয়ে কংক্রিট ধরে রাখার জন্য ছাঁচ তৈরি করা হয়েছিল।

শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ওই সরু ফাঁকগুলোর ভেতর থেকে শাটারিং অপসারণ করার কোনো উপায় ছিল না। বড় অংশগুলোর ক্ষেত্রে আমরা শাটারিং ব্যবহার করে তা খোলা জায়গা দিয়ে বের করে এনেছি। কিন্তু নির্দিষ্ট ওই অংশে কংক্রিট ধরে রাখার সুবিধার্থে বাঁশ ও সিমেন্টের বস্তা দিয়ে একটি ছাঁচ বা মোল্ড তৈরি করেছিলাম।’

বাসাইল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান সেতুটির একাংশ নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি বলেন, প্রকল্পটি জেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাধীন হওয়ায় এর দায়ভার উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর নেবে না।

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি জেলা প্রকৌশলীকে জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।’

সোমবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হবে।

তিনি বলেন, ‘অবিলম্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সেতুটির নির্মাণকাজে ব্যবহৃত উপকরণ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা জানা যাবে।

প্রধান সম্পাদক- আ.ত.ম. শামসুজ্জামান

ইশা ফাউন্ডেশন’র একটি প্রকাশনা

অনুসরণ করুন