চট্টগ্রাম বন্দরে নিলামে উঠছে ১২৬ টন আপেল-আদা
চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০৪ পিএম
ছবি-সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকা পাঁচ কনটেইনার পচনশীল পণ্য নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। এসব কনটেইনারে রয়েছে ৪৭ হাজার ৪৪০ কেজি আপেল ও ৭৮ হাজার ৩০০ কেজি আদা। সব মিলিয়ে ১ লাখ ২৫ হাজার ৭৪০ কেজি বা প্রায় ১২৬ টন পণ্যের সংরক্ষিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ৭৯ লাখ ৯১ হাজার টাকা।
বুধবার চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নিলামের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার নাজমুল হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মঙ্গলবার এ বিষয়ে ই-প্রকাশ্য নিলাম বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। আগামী ৪ নভেম্বর সকাল ৯টা থেকে ৯ নভেম্বর দুপুর ২টা পর্যন্ত অনলাইনে দরপত্র জমা দেওয়া যাবে।
নিলাম বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দুটি ৪০ ফুট কনটেইনারে রয়েছে ২৩ হাজার ৭২০ কেজি করে মোট ৪৭ হাজার ৪৪০ কেজি আপেল। এ দুই চালানের সংরক্ষিত মূল্য ৯২ লাখ ৮৩ হাজার ২৩৮ টাকা।
অন্যদিকে, তিনটি ৪০ ফুট কনটেইনারে রয়েছে ৭৮ হাজার ৩০০ কেজি আদা। এর মধ্যে একটি কনটেইনারে ২৪ হাজার ৩০০ কেজি এবং অন্য দুটি কনটেইনারে ২৭ হাজার কেজি করে আদা রয়েছে। এসব আদার সংরক্ষিত মূল্য ৮৭ লাখ ৭ হাজার ৮৬১ টাকা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগ্রহী ক্রেতারা ৫ নভেম্বর অফিস চলাকালীন সময়ে সরেজমিনে পণ্য পরিদর্শন করতে পারবেন। পণ্য যে অবস্থায় রয়েছে, সেই অবস্থায় বিক্রি করা হবে। তাই দরপত্র জমা দেওয়ার আগে পণ্যের পরিমাণ, গুণগত মান ও বর্তমান অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
নিলামে অংশ নিতে সংরক্ষিত মূল্যের ৫ শতাংশ জামানত হিসেবে যেকোনো তফসিলি ব্যাংক থেকে কমিশনার, কাস্টম হাউস, চট্টগ্রাম বরাবর পে-অর্ডার, ব্যাংক ড্রাফট অথবা ডিমান্ড ড্রাফট জমা দিতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করতে হবে।
আগামী ৯ নভেম্বর দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নিলাম শাখায় দরপত্র খোলা হবে। সর্বোচ্চ দর অনুমোদিত হলে ক্রেতাকে ডাকমূল্যের ওপর ১০ শতাংশ অগ্রিম আয়কর ও ১৫ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে। এরপর নির্ধারিত নিয়মে পণ্য খালাস নিতে পারবেন।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পচনশীল পণ্য দ্রুত নিষ্পত্তি, বন্দরের পণ্যজট কমানো, সংরক্ষণ সক্ষমতার সর্বোত্তম ব্যবহার এবং সরকারি রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে এ নিলামের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সহকারী কমিশনার নাজমুল হোসেন বলেন, পচনশীল পণ্য দীর্ঘদিন বন্দরে পড়ে থাকলে গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পাশাপাশি বন্দরের মূল্যবান জায়গাও আটকে থাকে। দ্রুত নিলামের মাধ্যমে এসব পণ্য নিষ্পত্তি হলে বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে এবং পণ্যজট কমবে। আগ্রহী ক্রেতারা পণ্য পরিদর্শন করে নির্ধারিত নিয়মে নিলামে অংশ নিতে পারবেন।

