কবি ও সাংবাদিক রথো রাফি মারা গেছেন
আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
ছবি-সংগৃহীত
কবি, অনুবাদক ও সাংবাদিক রথো রাফি আর নেই। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫১ বছর।
রথো রাফির ছোট ভাই মো. এহতেশামুল হক তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত সোমবার থেকে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন ছিলেন রথো রাফি। দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুস ও কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।
রথো রাফির প্রকৃত নাম মো. মোজাম্মেল হক। ১৯৭৫ সালের ৩১ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ তারুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। রসায়নশাস্ত্রে পড়াশোনা করলেও কবিতা ও অনুবাদে গড়ে তুলেছিলেন নিজস্ব ভাষাভঙ্গি। নব্বইয়ের দশকে কবি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি।
তাঁর একমাত্র কাব্যগ্রন্থ ‘অক্ষর ও বালির পৃথিবী’। ৪৩২ পৃষ্ঠার বইটিতে রয়েছে দুই শতাধিক কবিতা। ১৯৯৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দুই দশকে লেখা কবিতাগুলো নিয়ে বইটি প্রকাশিত হয়।
কবিতা রচনার পাশাপাশি অনুবাদক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন রথো রাফি। এরিখ ফ্রাইড, চার্লস বুকোস্কি, মুহাম্মদ আল-মাঘুত ও ইয়ারোস্লাভ সাইফার্টের মতো বিশ্বখ্যাত কবিদের কবিতা বাংলায় অনুবাদ করেছেন তিনি। দীর্ঘদিন ছোটকাগজ আন্দোলন ও প্রতিষ্ঠানবিরোধী সাহিত্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ছোটকাগজ ‘গাণ্ডীব’-এ নিয়মিত লিখতেন।
সাংবাদিকতা পেশায় তিনি দৈনিক সমকালের সহ-সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ভোরের কাগজের অনলাইন বিভাগে শিফট ইনচার্জ হিসেবেও কাজ করেছেন। ব্যক্তিজীবনে অবিবাহিত রথো রাফির মা-বাবা আগেই মারা গেছেন। তাঁর দুই ভাই রয়েছেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবার জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে গ্রামের বাড়ি দক্ষিণ তারুয়ায় পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার পাশে তাঁকে দাফন করা হবে।
কবিতা, অনুবাদ ও সাংবাদিকতায় অবদানের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্য ও সাংবাদিকতা জগতে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন রথো রাফি।

