জন্মদিনে স্মরণ
কণ্ঠে বেঁচে আছেন প্লেব্যাক সম্রাট এন্ড্রু কিশোর
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
ছবি-সংগৃহীত
বাংলা চলচ্চিত্রের গানে এক অনন্য অধ্যায়ের নাম এন্ড্রু কিশোর। পর্দার নায়ক বদলেছে, সময়ের সঙ্গে বদলেছে চলচ্চিত্রের ধরন; কিন্তু তাঁর কণ্ঠের আবেদন কখনো ফুরায়নি। প্রেম, বিরহ, আনন্দ কিংবা জীবনের গভীর উপলব্ধি—সব অনুভূতির প্রকাশে তাঁর কণ্ঠ হয়ে উঠেছিল কোটি শ্রোতার আপন ঠিকানা। আজ ৪ নভেম্বর, এই প্লেব্যাক সম্রাটের ৭১তম জন্মদিন।
১৯৫৫ সালের এই দিনে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন এন্ড্রু কিশোর। সংগীতে তাঁর হাতেখড়ি রাজশাহীর ললিতকলা একাডেমিতে, ওস্তাদ আবদুল আজিজ বাচ্চুর কাছে। সত্তরের দশকের শেষ দিকে সলিল চৌধুরীর সুরে ‘মেইল ট্রেন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্লেব্যাক জগতে যাত্রা শুরু করেন তিনি।
তবে তাঁর কণ্ঠের স্বতন্ত্র পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ে ১৯৮২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘বড় ভালো লোক ছিল’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। সৈয়দ শামসুল হকের লেখা ও আলম খানের সুরে ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’ গানটি তাঁকে এনে দেয় প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
এন্ড্রু কিশোরের কণ্ঠে অসংখ্য গান বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে স্থায়ী আসন করে নিয়েছে। ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘পড়ে না চোখের পলক’ কিংবা ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’—এমন অনেক গান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে শ্রোতাদের মুগ্ধ করে চলেছে। দীর্ঘ সংগীতজীবনে তিনি আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।
শুধু কণ্ঠের জাদু নয়, ব্যক্তিত্ব ও সহকর্মীদের প্রতি আন্তরিকতার জন্যও সংগীতাঙ্গনে বিশেষভাবে সমাদৃত ছিলেন এন্ড্রু কিশোর। নবীন শিল্পীদের উৎসাহ দেওয়া, সহকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো এবং সহজ-সরল আচরণের কারণে চলচ্চিত্র অঙ্গনে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘কিশোর দা’ নামে।
দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর ২০২০ সালের ৬ জুলাই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই কিংবদন্তি শিল্পী। তাঁর প্রয়াণে বাংলা চলচ্চিত্রের সংগীতজগতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা আজও পূরণ হয়নি।
সময় থেমে থাকে না, শিল্পীরাও একসময় চলে যান। কিন্তু কিছু কণ্ঠ সময়ের সীমানা পেরিয়ে মানুষের হৃদয়ে থেকে যায়। এন্ড্রু কিশোর তেমনই এক শিল্পী—যাঁর গানেই বারবার ফিরে পাওয়া যায় তাঁকে। জন্মদিনে প্লেব্যাক সম্রাটের প্রতি শ্রদ্ধা।

