কেনিয়ায় স্বর্ণখনি ধসে ১৫ জনের মৃত্যু
সমাচার প্রতিদিন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আফ্রিকার দেশ কেনিয়ার পশ্চিম পোকোট কাউন্টির রুমোস হিলসে একটি স্বর্ণের খনি ধসে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ১০ জনই নারী বলে জানা গেছে। রাজধানী নাইরোবি থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৮ মে) স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা আনাদোলু।
জরুরি উদ্ধারকারী দল, স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকরা আটকে পড়া খনি শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টায় ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ছেন। কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে যে, বিশেষ করে এলাকায় ভারী বৃষ্টির কারণে মাটির অস্থিতিশীল অবস্থা উদ্ধারকার্যকে আরও জটিল করে তুলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকারী কর্মকর্তাদের মতে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অপরিকল্পিত একটি স্বর্ণের খনি এলাকায় শ্রমিকরা কাজ করার সময় আচমকা ধস নামে। এতে কয়েক ডজন মানুষ মাটির নিচে আটকা পড়েন।এলাকায় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় সরকারের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আইজ্যাক লোমওয়াই স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনাস্থল থেকে এ পর্যন্ত ১৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছি। খনি ধসের আগে তারা যে অংশে কাজ করছিলেন, সেখানে একটি পাথর পড়ে তারা আটকা পড়েন।
কেনিয়ার রেড ক্রস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও খনি শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন এমন আশঙ্কার মধ্যে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থান থেকে এখনও শব্দ শোনা যাচ্ছে, যা আরও মানুষ মাটির নিচে আটকা পড়ে থাকার আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে।
কেনিয়ার কিছু অংশে অবৈধ ও অনানুষ্ঠানিক খনি কার্যক্রম এখনও প্রচলিত আছে, যেখানে নিম্নমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইনের দুর্বল প্রয়োগ এবং বিপজ্জনক খনন পদ্ধতির কারণে প্রায়শই মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পশ্চিম কেনিয়ার সিয়াইয়া কাউন্টির রাড়িয়েডায় একটি স্বর্ণের খনি ধসে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আটকা পড়েন। অন্যদিকে ২০২৩ সালে কাকামেগা কাউন্টিতে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে খনির সুড়ঙ্গগুলো দুর্বল হয়ে পড়লে আরেকটি খনি ধসে একাধিক শ্রমিক নিহত হন।

