ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহত ৯২০, নিখোঁজ ৫০ হাজারের বেশি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম
ছবি-সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলায় গত বুধবার সন্ধ্যায় আঘাত হানা পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০ জনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত থাকলেও অভিযান ধীরগতিতে চলায় দুর্গত এলাকাগুলোতে ক্ষোভ বাড়ছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পর ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসের কাছে উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একের পর এক ভবন ধসে পড়ে সেখানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো ক্যাবেলো জানান, স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ৮টা থেকে দুর্গত এলাকায় প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে, যাতে উদ্ধার কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনা করা যায়।
চিলি থেকে আসা একটি উদ্ধারকারী দল লা গুয়াইরার একটি বৃহৎ আবাসিক কমপ্লেক্সে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। চারটি বহুতল ভবন ও শত শত অ্যাপার্টমেন্ট নিয়ে গড়ে ওঠা কমপ্লেক্সটির বেশিরভাগই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
উদ্ধারকারী দলের প্রধান নাদিওমার পোলাঙ্কো বলেন, “ভবনগুলো পুরোপুরি ধসে পড়েছে। জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এখন মরদেহ উদ্ধারে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”
এদিকে অনেক এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা, স্বেচ্ছাসেবক ও স্বজনরা ভারী যন্ত্রপাতি ছাড়াই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি ও সরকারি সহায়তার অভাবের অভিযোগ তুলেছেন।
ভূমিকম্পে স্বজন হারানো ৪০ বছর বয়সী মারজোসলি সালাজার বলেন, “আমি আমার ছোট্ট গেইলকে খুঁজছি। ওর বয়স ছিল মাত্র পাঁচ মাস।” তিনি জানান, এ ঘটনায় তার ১৬ বছর বয়সী মেয়ে মারা গেছে এবং পাঁচ মাস বয়সী শিশু গেইলসহ পরিবারের আরও একজন সদস্য এখনও নিখোঁজ।
এদিকে কারাকাসের একটি অভিজাত এলাকায় অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে গেলে ক্ষুব্ধ জনতার বিক্ষোভের মুখে পড়েন। স্বজনদের উদ্ধারে বিলম্বের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভকারীরা সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন এবং স্লোগান দেন, “সরকার জনগণের জন্য কিছুই করছে না।”
জাতিসংঘ জানিয়েছে, স্পেন, এল সালভাদর, সুইজারল্যান্ড, কলম্বিয়া ও মেক্সিকোসহ অন্তত ১৭টি দেশের উদ্ধারকারী দল ভেনেজুয়েলায় কাজ করছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ২৫০ জনের বেশি সদস্যের একটি দুর্যোগ মোকাবিলা দল পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। দলটির সঙ্গে প্রশিক্ষিত অনুসন্ধানী কুকুরও রয়েছে, যা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষের অবস্থান শনাক্তে সহায়তা করবে।
জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবিক সংস্থার মতে, এই ভূমিকম্পের আগেই ভেনেজুয়েলা খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা সংকট ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার মতো বহুমুখী সংকটে জর্জরিত ছিল। এই দুর্যোগ দেশটির মানবিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সূত্র: এএফপি

