Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

নেপালের জলবিদ্যুৎ টানেলে ৯৩৩ জন নিখোঁজ, চলছে উদ্ধার অভিযান

Icon

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম

নেপালের জলবিদ্যুৎ টানেলে ৯৩৩ জন নিখোঁজ, চলছে উদ্ধার অভিযান

ছবি-সংগৃহীত

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর দেশটির ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল ও ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় ৯৩৩ জন আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের উদ্ধারে কাদা ও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে টানেলের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা।

সোমবার (৩১ আগস্ট) নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো থেকে ৯৩৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গত বুধবার হিমালয় থেকে বরফ, পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের ভয়াবহ স্রোত নেমে এসে নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এতে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। সীমান্তের তিব্বত অংশে আরও ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নেপালে এখনো ৪ হাজার ২৪৭ জন নিখোঁজ, যাদের মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক। তিব্বতে নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৫৪৬ জন।

উদ্ধারকারী দলের প্রকাশ করা ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে টানেলের প্রবেশমুখে জমে থাকা কাদা ও ধ্বংসাবশেষ সরানো হচ্ছে। নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত জানান, টানেলের ভেতরে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ জমে থাকায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে।

উদ্ধার দলের সদস্য আশিস গুরুং জানান, টানেলের ভেতরের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। কোথাও কোথাও কাদার গভীরতা বুক পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। তার দল রুস্বার চিলিমে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে প্রায় ১৩০ মিটার ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে।

কাদার গভীরতা পরিমাপ ও চলাচলের জন্য পর্বতারোহীরা কাঠের তক্তা ব্যবহার করছেন। পরে সেগুলো দিয়ে অস্থায়ী সেতু তৈরি করা হয়েছে এবং নিরাপত্তার জন্য দড়ির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। টানেলের আরও ভেতরে মরদেহের মতো কিছু দেখা গেলেও আটকে পড়াদের কেউ কেউ এখনো জীবিত থাকতে পারেন বলে আশা করছেন উদ্ধারকারীরা।

জলবিদ্যুৎ কোম্পানির দেওয়া নকশায় টানেলের ভেতরে কয়েকটি নিরাপদ স্থান থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। উদ্ধার দলের সদস্য আশিস গুরুং বলেন, এসব স্থানে আটকে পড়া ব্যক্তিরা আশ্রয় নিয়ে বেঁচে থাকতে পারেন।

খারাপ আবহাওয়া ও নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় শুক্রবার থেকে কয়েক দফা উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখতে হয়েছিল। নেপাল-চীন সীমান্তে দুর্যোগের কারণে সৃষ্ট একটি হ্রদ উপচে পড়ায় নদীগুলোতে নতুন করে বন্যার আশঙ্কাও তৈরি হয়। তবে সোমবার আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় উদ্ধার অভিযান আবারও গতি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন রাসুয়া জেলার প্রশাসক নরেন্দ্র পারিয়ার।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এ ঘটনাকে নজিরবিহীন ও ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম ভূখণ্ডের মধ্যেও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। প্রায় ২১ হাজার নিরাপত্তাকর্মীর পাশাপাশি বেসামরিক কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরাও উদ্ধার ও ত্রাণকাজে অংশ নিচ্ছেন।

নেপাল আগে জানিয়েছিল, সাধারণ অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন নেই। তবে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল থেকে মানুষ উদ্ধারে প্রতিবেশী ভারত ও চীনের বিশেষজ্ঞ সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, বেইজিং ২ হাজার ১০০-এর বেশি উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করেছে এবং ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে অন্তত ২২ কোটি ইউয়ান বরাদ্দ করেছে। নিখোঁজদের সন্ধানে চীনা সেনারা জীবন শনাক্তকারী বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করছেন। রেড ক্রসের হিসাবে, এই দুর্যোগে নেপালে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

এদিকে দুর্যোগটির সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা চলছে। দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে হিমবাহের অস্থিতিশীলতা এ ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

তবে ভবিষ্যৎ দুর্যোগ মোকাবিলায় তথ্য ভাগাভাগি নিয়ে প্রশ্নও দেখা দিয়েছে। রয়টার্সকে নেপালের দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হিমবাহের ঝুঁকি ও পানির স্তরসংক্রান্ত তথ্য নিয়ে চীনের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। বন্যায় ভেসে যাওয়া অনেক মরদেহ এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

প্রধান সম্পাদক- আ.ত.ম. শামসুজ্জামান

ইশা ফাউন্ডেশন’র একটি প্রকাশনা

অনুসরণ করুন