সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ রাষ্ট্রদূত ও ব্রিটিশ হাইকমিশন প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ
সমাচার প্রতিদিন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ.জেড.এম. জাহিদ হোসেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিসটেনশন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনের এক্সপার্ট মিশনের সদস্য ম্যাথুউ ডেভিড কার্টারের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদলের পৃথক পৃথক বৈঠক অনুৃষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রীর অফিস কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সরকারের সমাজকল্যাণ, নারী ও শিশুর উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং মানবিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পসমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাতে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার নারী ও শিশুদের ক্ষমতায়ন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং সমাজের অসহায়-দুস্থ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।
তিনি ইইউ’র সঙ্গে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রসমূহ, বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তা সৃজন, শিশু সুরক্ষা প্রকল্প এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিসটেনসেনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ডা. জাহিদ হোসেন বাংলাদেশের সামাজিক কল্যাণ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সহায়তা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেন।
মন্ত্রী আগামী ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে বগুড়া জেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ পত্র প্রদান করেন।
ব্রিটিশ হাইকমিশনের এক্সপার্ট মিশনের সদস্য ম্যাথিউ ডেভিড কার্টারের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাতে মন্ত্রী বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্যের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ঐতিহ্য তুলে ধরে সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু উন্নয়ন খাতে যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন।
ডা. জাহিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের ২১ দিনের মাথায় জনগণের কাছে নির্বাচনের ওয়াদা প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ১০ মার্চ ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বপ্রথম পাইলটিং পর্যায়ে দেশের অস্বচ্ছল ৩৭হাজার ৮১৪টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রায় ৪০শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত। কৃষকদের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে 'কৃষি কার্ড' দেওয়া হয়েছে। জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলোকে আরও গতিশীল করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নারী ও শিশুদের অধিকার সুরক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং দুস্থ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে আমরা সকলের সহযোগিতা কামনা করি। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে এ ধরনের সাক্ষাৎ আমাদের প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে।
প্রতিনিধিরা মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগে তাদের দেশের সমর্থন অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
সাক্ষাৎকালে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীন এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

