Logo
Logo
×

জাতীয়

কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Icon

সমাচার প্রতিদিন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৯ এএম

কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ছবি-সংগৃহীত

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের অনন্য এই প্রতিভাকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করতে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন।

১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে—বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়—শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে আজ ‘মৃত্যুঞ্জয়ী নজরুল’ শীর্ষক আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও হামদ-নাতের আয়োজন করেছে কবি নজরুল ইনস্টিটিউট।

অন্যায়ের বিরুদ্ধে দ্রোহ, মানবতার প্রেম এবং সাম্যের চেতনায় দীপ্ত কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। শৈশব থেকেই দারিদ্র্য ও নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে বেড়ে ওঠা নজরুল পরবর্তী সময়ে সাহিত্য, সংগীত ও সাংবাদিকতার মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদান রাখেন।

নজরুলের সৃষ্টিশীল জীবন ছিল মাত্র ২৩ বছরের। এই স্বল্প সময়েই তাঁর কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও নাটক বাংলা সাহিত্যকে নতুন মাত্রা দেয়। তাঁর লেখায় যেমন অন্যায়, শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ উঠে এসেছে, তেমনি ফুটে উঠেছে প্রেম, মানবতা ও সাম্যের চিরন্তন বাণী।

বাংলা সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে সমধিক পরিচিত হলেও তাঁর সৃষ্টিকর্মের বিস্তার ছিল বহুমাত্রিক। কবিতা, গান, উপন্যাস, গল্প, নাটক ও প্রবন্ধের পাশাপাশি সাংবাদিকতা, অভিনয় ও সংগীতেও তিনি রেখেছেন স্বতন্ত্র স্বাক্ষর। তাঁর সৃষ্ট অসংখ্য গান ও সুর বাংলা সংগীতের অমূল্য সম্পদ হয়ে আছে।

প্রেম, বিদ্রোহ, সাম্যবাদ ও জাগরণের কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কবিতা ও গানের মাধ্যমে শোষণ, বৈষম্য ও অবিচারের বিরুদ্ধে মানুষকে সংগ্রামের প্রেরণা দিয়েছেন। তাঁর সাহিত্যকর্মে ধর্ম-বর্ণ ও সম্প্রদায়ের বিভাজনের ঊর্ধ্বে মানবতার জয়গান উচ্চারিত হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় নজরুলের কবিতা ও গান বাঙালি জাতিকে অনুপ্রাণিত করেছে। তাঁর সৃষ্টি সংগ্রামী মানুষের সাহস ও শক্তির উৎস হয়ে উঠেছিল। অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনের চেতনায় আজও তাঁর সাহিত্য ও সংগীত প্রাসঙ্গিক বলে মনে করেন সাহিত্য ও সংস্কৃতিসংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবি নজরুল ইসলামকে সপরিবারে ঢাকায় আনা হয় এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে তাঁকে জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে তাঁকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করে।

একই বছর তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন। বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতিতে নজরুলের অসামান্য অবদান আজও বাঙালি জাতির সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে।

মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও কাজী নজরুল ইসলামের দ্রোহ, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার বাণী সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাঁর কণ্ঠ আজও মানুষকে সাহস জোগায়, আর তাঁর সৃষ্টি নতুন প্রজন্মকে মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রেরণা দেয়।

৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাই শুধু একজন কবিকেই নয়, বাংলা ও বাঙালির চিরন্তন জাগরণের এক মহান কণ্ঠস্বরকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে দেশবাসী।

প্রধান সম্পাদক- আ.ত.ম. শামসুজ্জামান

ইশা ফাউন্ডেশন’র একটি প্রকাশনা

অনুসরণ করুন