Logo
Logo
×

জাতীয়

ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেললেন ঢাবি শিক্ষার্থী

Icon

ঢাবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম

ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেললেন ঢাবি শিক্ষার্থী

ছবি-সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনের সংগ্রহশালায় রাখা পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর একটি ছবির ফ্রেম ভেঙে ছবি ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি রাখা নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার ডাকসু ভবনে প্রবেশ করেন। পরে সংগ্রহশালায় রাখা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর একটি ছবি খুলে মেঝেতে আছাড় দিয়ে ভেঙে ফেলেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় ডাকসু ভবনে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থী ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন। ছবি ভেঙে ফেলার পর সেখানে উপস্থিতদের মধ্যে আলোচনা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে ডাকসু নেতৃবৃন্দ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রশাসনিক বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এর আগে সংস্কারের পর নতুন করে চালু হওয়া ডাকসু সংগ্রহশালায় মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি স্থান পাওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়। সংগ্রহশালার ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সালের ইতিহাস উপস্থাপনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অধ্যায় যথাযথভাবে স্থান না পাওয়ার অভিযোগও ওঠে। এ নিয়ে শিক্ষার্থী, সাবেক ডাকসু নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন দেখা দেয়।

সংগ্রহশালায় রাখা জিন্নাহর ছবিগুলোর মধ্যে একটি ছিল ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের। আরেকটি ছিল ১৯৪০ সালের লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের গ্রুপ ছবি। এ ছাড়া ১৯৭০ সালের নির্বাচনসংক্রান্ত একটি পেপার কাটিংয়েও জিন্নাহর ছবি ছিল।

জিন্নাহর ছবি সংগ্রহশালায় অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়ে এরই মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ডাকসু সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে ছবিগুলোকে ঐতিহাসিক ঘটনার অংশ হিসেবে উপস্থাপনের কথা বলা হলেও সমালোচকদের একটি অংশ প্রশ্ন তুলেছিলেন, বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস উপস্থাপনে কী ধরনের নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে।

এদিকে ছবি ভাঙার ঘটনায় আবু তৈয়ব হাবিলদারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ডাকসু কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযুক্ত করা হবে।

উল্লেখ্য, আবু তৈয়ব হাবিলদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং তিনি ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রার্থী হয়েছিলেন।

প্রধান সম্পাদক- আ.ত.ম. শামসুজ্জামান

ইশা ফাউন্ডেশন’র একটি প্রকাশনা

অনুসরণ করুন