প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেছেন, দেশের কিছু সংবাদপত্র ও সোশ্যাল মিডিয়া জোড়াতালির খবর দিয়ে ও ভিডিও বানিয়ে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, বতর্মান সরকারের দায়িত্ব পালনের মাত্র সাত মাস। অথচ এ স্বল্প সময়ের মধ্যেই সরকারকে বিব্রত করতে নানাভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারের এ পর্যন্ত গৃহীত সকল কর্মকাণ্ড তুলে ধরার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।
স্বাগত বক্তব্যে আতিকুর রহমান রুমন আরো বলেন, বর্তমান সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। সরকারকে আমাদের নানাভাবে সহযোগিতা করা প্রয়োজন। আমাদের আরও ধৈর্য্য ধরতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, আজ একটি ভিডিওতে দেখতে পেয়েছি, দেশের কোনো এক জায়গাতে একটি মন্দির ভাঙা হচ্ছে নতুন করে সংস্কারের জন্য। এ খবরকে আমাদের পাশের দেশের কিছু সাংবাদিক বা আমাদের কিছু মানুষ বিকৃতভাবে প্রচার করছে। সরকারের উপর চাপানো হচ্ছে, যে মন্দির ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে। অথচ সরকার পুরোনো নানা স্থাপনার উন্নয়নে সংস্কারের কাজ করছে।
তিনি বলেন, একইভাবে আমাদের দেশেও কিছু সংবাদপত্র বা গণমাধ্যম জোড়াতালির খবর ছাপাচ্ছে ও ভিডিও বানাচ্ছে সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে।
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংবাদপত্রের জগতের মানুষ ছিলেন। একটি জাতীয় দৈনিকের প্রকাশক ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন তাঁর নাম প্রিন্টারস লাইনে ছিল। যদিও বিগত পলাতক সরকার পালানোর ছয় মাস আগে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে এটিকে বন্ধ করে দিয়েছিল।
তিনি বলেন, তখন বেকার হন অনেক সাংবাদিক, অনেক কর্মকর্তা, অনেক কর্মচারী। সেদিন আপনারা অনেকে প্রতিবাদ করেছিলেন আমাদের জন্য। অনেকে সহানুভূতি জানিয়ে ছিলেন। এ জন্য ধন্যবাদ আপনাদের।
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দুইদিন আগেও তারেক রহমান এই সংবাদপত্রের মালিকানায় এবং প্রকাশক হিসেবে ছিলেন।
তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন। গত বিএনপি সরকারের শেষ সময় ১৭/১৮ বছর আগে একটি স্বনামধন্য জাতীয় দৈনিক তাঁকে নিয়ে সিরিজ নিউজ করেছিল।’
তিনি আরো বলেন, 'তারেক রহমান তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না। সরকারের উপদেষ্টাও ছিলেন না। সরকারের কোন অংশেও ছিলেন না। তখন তিনি বনানীতে বিএনপির চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে বসতেন এবং গবেষণামূলক কাজ করতেন। সেখানে আমিও একজন কর্মী ছিলাম।’
অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, তখন দেখেছি আপনাদের অনেকে সেখানে ঢুকতে পারতেন। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ছিলেন।
তিনি বলেন, ইঞ্জিনিয়ার বকুল তখনও আমাদের সংসদ সদস্য (এমপি) ছিলেন। তিনি অনলাইনে বলছিলেন, তাঁর এলাকায় এই আছে, ওই আছে, এই সমস্যা, ওই সমস্যা।
তখন তারেক রহমান তাঁকে থামিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, আপনার এলাকা কোনটা। নরসিংদী উত্তর শুনে তারেক রহমান ফাইল বের করে তাঁকে প্রশ্ন করা শুরু করেন।
তিনি তাঁকে বলেন, আপনার এলাকায় এগুলো আছে, ওই আছে। আপনার এলাকায় এই জায়গা উর্বর, ওই জায়গাতে এই জিনিস হয়। এসব কিন্তু এই বনানীর কার্যালয়ে বসেই তিনি করেছেন।
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, বিগত সরকার কয়েক লাখ কোটি টাকা বিদেশী ঋণ চাপিয়ে গেছে বর্তমান সরকারের ওপর। কালকে যে শিশু জন্মগ্রহণ করবে সে ঋণের বোঝা নিয়ে জন্মগ্রহণ করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবসময় সচেষ্ট আছেন মানুষের উন্নয়নে। তাই আমাদের ধৈর্য ধরা উচিত।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ গ্যাসের সংকটে ছিলেন, বিদ্যুতের সমস্যায় ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী এগুলোর ব্যবস্থা করেই ঘোষণা দিয়েছেন। আগামীকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় দিয়েছেন সমাধানের। মনিটরিং সেল করেছেন। আমাদের কর্মীরা, আমরা কাজ করছি এগুলো নিয়ে।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, তাই আমরা সরকারকে সহযোগিতা করলে একটি সুন্দর, সুফলা বাংলাদেশ গড়তে পারবো। আসুন, আমাদের বাংলাদেশ নতুনভাবে গড়তে আমরা সবাই মিলে কাজ করি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমরা যে যতটুকু পারি নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতা করি।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এবং প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির (বিটু)ু এবং প্রেস উইংয়ের সদস্যবৃন্দ।