নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইরানি প্রেসিডেন্টের বৈঠক
সমাচার প্রতিদিন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৩ পিএম
ছবি: এক্স
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরানি প্রেসিডেন্টের নিউইয়র্ক সফরের প্রথম দিনে স্থানীয় সময় বুধবার হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল হোটেলে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা (IRNA) ও বাংলাদেশি বার্তা সংস্থা ইউএনবির প্রতিবেদনে বৈঠকের তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব, বিশেষ করে বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী, রেমিট্যান্স, নৌপরিবহন ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ঢাকা জাতিসংঘকে একটি নিরপেক্ষ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করে। পশ্চিম এশিয়ায় থাকা প্রায় ৮০ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী নিয়েও বাংলাদেশ উদ্বেগ জানিয়েছে।
তিনি বলেন, সংঘাত শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে না এগোলে বাংলাদেশের প্রবাসী কর্মী ও রেমিট্যান্সের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। বিষয়টিকে বাংলাদেশ ‘গভীর উদ্বেগের’ বিষয় হিসেবে দেখছে বলেও জানান তিনি।
পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জানান, সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় কয়েকটি বাংলাদেশি কনটেইনার জাহাজ আটকে আছে।
বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্টকে বিষয়টি জানিয়ে দ্রুত সমাধান এবং কূটনৈতিক উপায়ে সংঘাতের অবসানের আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, সংঘাতের সমাধান হলে যুদ্ধে আটকে থাকা বাংলাদেশি জাহাজগুলো যাতে নিরাপদে দেশে ফিরতে পারে, সে বিষয়ে ইরানের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
চলমান সংঘাতের কারণে বাংলাদেশ জ্বালানি সংকটের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে বলেও বৈঠকে উদ্বেগ জানানো হয়।
পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের উত্থাপিত বিষয়গুলো ইরানের প্রেসিডেন্ট মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং তাঁর কর্মকর্তারা আলোচ্য বিষয়গুলো নোট করে নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, পশ্চিম এশিয়ার অন্যান্য অংশীদারও বাংলাদেশের নিরপেক্ষ অবস্থানের কারণে এ বিষয়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বাংলাদেশ বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ‘সফট মিডিয়াম ইনফ্লুয়েন্স’ বা নরম মধ্যস্থতাকারী প্রভাব হিসেবে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে।
জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানান তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিন উপস্থিত ছিলেন।

