Logo
Logo
×

জাতীয়

আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

Icon

ফেনী সংবাদদাতা

প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম

আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

দেশে সবার জন্য আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সরকার সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত আইনের শাসন পর্যায়ক্রমে প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনীর পরশুরাম উপজেলার খেয়াঘাট-মুহুরী সেতু এলাকায় মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসনের (প্রথম পর্যায়) উদ্বোধন শেষে আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। সেই দায়িত্ব পালনে সরকার সর্বশক্তি দিয়ে সবার জন্য আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে।

তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে দেশে আইনের শাসন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন করে ধীরে ধীরে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

‘অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা’ নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান

সাম্প্রতিক কয়েকটি রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু গোষ্ঠী বিভিন্ন ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা’কে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি হলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের জনগণই।

নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগে একটি রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গ তুলে তিনি অন্যদের সমালোচনা করার আগে নিজেদের দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।

স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে ১৫০-তে উন্নীত করা হবে।

তিনি বলেন, এতে বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন না হলে মানুষকে উপজেলা থেকে জেলা শহর বা ঢাকায় ছুটতে হবে না। উপজেলা পর্যায়েই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

সম্প্রসারিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় ডায়ালাইসিস এবং মা ও শিশুর চিকিৎসার ব্যবস্থাও থাকবে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মজীবী পরিবারের নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড এবং ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও মধ্যম আয়ের কৃষকদের সরকারি সহায়তার আওতায় আনতে কৃষক কার্ড চালু করা হচ্ছে।

তিনি জানান, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম সাত দিনের মধ্যেই সুদসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে সরকারের প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে এবং প্রায় ১৩ লাখ কৃষক এ সুবিধা পেয়েছেন।

ফেনীতে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রকল্পটির আওতায় বাঁধ পুনর্বাসন, নদীতীর সংরক্ষণ, নদী ও জলাধার পুনঃখনন এবং সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসনের কাজ রয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এলাকার প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। প্রায় ৩৪ হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা পৌঁছাবে এবং ফসল উৎপাদন আনুমানিক ১ লাখ মেট্রিক টন বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, কৃষিতে সেচ সুবিধা এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর পানির চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে খাল ও নদী পুনঃখনন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

গত ১৭ বছরে বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল ও কারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু হলে দেশের তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। কর্মসংস্থান বাড়লে পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়বে এবং দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতেই সরকার তার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষায় জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির ঘোষিত কর্মসূচিগুলো এখন জনগণের কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে কোনো মূল্যে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হবে। জনগণের জন্য নেওয়া কর্মসূচিগুলো সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়নে তিনি সবার দোয়া কামনা করেন।

এর আগে প্রকল্প উদ্বোধনের পর খেয়াঘাট-মুহুরী সেতু এলাকায় একটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে মাটি কেটে একটি খাল পুনঃখনন, ড্রেজারের মাধ্যমে নদীর তলদেশ থেকে বালু অপসারণ এবং বাঁধ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সী রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন, সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান সম্পাদক- আ.ত.ম. শামসুজ্জামান

ইশা ফাউন্ডেশন’র একটি প্রকাশনা

অনুসরণ করুন