টুপটুপ রিসোর্ট :
আগুনে পুড়ল ১০ প্রাণ, তদন্ত কমিটি গঠন
কক্সবাজার সংবাদদাতা
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
ছবি-সংগৃহীত
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্তোরাঁ অ্যান্ড রিসোর্টে আগুনে পুড়ল ১০ প্রাণ, আহত হয়েছেন আরও সাতজন। তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের আটজন আছেন বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
প্রাথমিকভাবে
রিসোর্টের বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা ফায়ার সার্ভিসের।
শনিবার
(১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার রিসোর্টটিতে
আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে। কাঠের তৈরি ৩ তলা রিসোর্টটি
দ্রুত পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে হতাহত ব্যক্তিদের
সন্ধান পান উদ্ধারকর্মীরা।
রিসোর্ট
ইনচার্জ মো. সুমন জানান, ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত
হয়েছে। আগুন লাগার পরপরই তা নেভানোর চেষ্টা করা হলেও রিসোর্টের শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র
(এসি) ও সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আগুন পুরো স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা
জানান, শনিবার সকাল ৭টার দিকে রিসোর্ট থেকে বিকট শব্দ শোনা যায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই
আগুন পুরো স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে
আগুন নেভানো ও উদ্ধারকাজ শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি
নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)
ও এসআরবির সদস্যরা অংশ নেন।
তারা
আরও জানায়, কাঠের তৈরি রিসোর্টটিতে মোট ৯টি কক্ষ ছিল। কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে
প্রায় ২৯ কিলোমিটার দূরে রিসোর্টটির অবস্থান। আগুনে পুরো স্থাপনা পুড়ে যাওয়ায় ব্যাপক
ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে জানান, প্রথম দফায় ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে রিসোর্টের টয়লেট থেকে আরও চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রিসোর্টে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিহত
ছয়জন হলেন, ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের
লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭) এবং চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও পাঁচ
বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ।
এদিকে
অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে
পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগুনের সূত্রপাত, প্রাণহানির কারণ ও
রিসোর্টের নিরাপত্তাব্যবস্থা খতিয়ে দেখবে।

