Logo
Logo
×

জাতীয়

ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০০ পিএম

ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ছবি-পিএমও

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশকে স্বাধীন করা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে যেমন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, তেমনি আগামী দিনে দেশ গড়ার সংগ্রামেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

রবিবার রাতে রাজধানীর মহাখালী ও গুলশান-বনানীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে দেশের মানুষ ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগ্রাম করেছে। আগামী দিনে দেশ গড়ার ক্ষেত্রেও এই ঐক্য ও সম্প্রীতির চেতনা ধারণ করতে হবে।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতার সংগ্রামে কে কোন ধর্মের মানুষ, তা বিবেচ্য ছিল না। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—দেশের প্রতি ভালোবাসা থেকে সবাই একসঙ্গে লড়াই করে স্বাধীনতা অর্জন করেছেন।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছে। মানুষের ভোটাধিকার ও বাক্‌স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও ধর্মীয় পরিচয় কোনো বিভাজন তৈরি করতে পারেনি। একইভাবে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানেও দলমত নির্বিশেষে নারী-পুরুষ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রেখেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশকে স্বাধীন করার জন্য, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা যেমন ধর্ম দেখিনি, জাত দেখিনি, ঠিক একইভাবে আগামী দিনে দেশ গড়ার সংগ্রামেও আমরা ধর্ম দেখব না। আমরা দেখব কে এই দেশের নাগরিক।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় পরিচয়, আমরা সবাই বাংলাদেশের মানুষ। এই দেশের ওপর আপনার যেমন অধিকার আছে, আমারও তেমন অধিকার আছে। সেই অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রতিটি ধর্ম ও পেশার মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ে তুলতে হবে।’

দেশের হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এ দেশে সব ধর্মের মানুষ দীর্ঘকাল ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে। আগামী হাজার বছরও যেন সব ধর্মের মানুষ পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে একসঙ্গে বসবাস করতে পারে, সেটিই সবার প্রত্যাশা হওয়া উচিত।

এর আগে রাতে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে রাজধানীর মহাখালী রক্ষাকালী মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। সেখানে পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি।

পরে বনানীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে উপস্থিত পূজারি ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং দুর্গোৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান সম্পাদক- আ.ত.ম. শামসুজ্জামান

ইশা ফাউন্ডেশন’র একটি প্রকাশনা

অনুসরণ করুন