মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই হোক লক্ষ্য, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম
ছবি : প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সুন্দর ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ, আন্তরিকতা ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার দৃঢ় ইচ্ছা। সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রবিবার রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য আমাদের সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করা উচিত। আমরা সবাই সুন্দর একটা বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি। এ জন্য আমাদের অবশ্যই কাজ করতে হবে। এই কাজটাই শুরু করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।’
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পথচলার স্মৃতিচারণ করে তারেক রহমান বলেন, ১৯৯৯ সালে ফাউন্ডেশনটির যাত্রা শুরু হয়। এর ‘একটি উদ্যোগ, একটু চেষ্টা’ স্লোগানটি তিনি ২০০৩ সালে লিখেছিলেন। দীর্ঘ ২৭ বছরের পথচলায় সংগঠনটি মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়েছি এবং আমরা সেটি করেছি। আমরা করতে পেরেছি। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে “একটি উদ্যোগ, একটু চেষ্টা এনে দেবে সচ্ছলতা, দেশে আসবে স্বনির্ভরতা”—এই অবস্থাকে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।’
ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছানো এবং তাদের কল্যাণে কাজ করা সম্ভব।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তিনি চিন্তা করেছিলেন, তাঁর বাবা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থেকে মানুষের জন্য কী কী কাজ করেছিলেন এবং সেসব উদ্যোগ কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষি, শিল্প, শিক্ষা এবং নারীর ক্ষমতায়নেও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষকেরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম শক্তি। শহীদ জিয়া কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, দেশের শিল্পভিত্তিকে শক্তিশালী করতে চেয়েছিলেন এবং শিক্ষার আলো মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। একই সঙ্গে নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৯৯ সালে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার সময় বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল না। রাজনীতির বাইরেও কীভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায় এবং শহীদ জিয়ার জনকল্যাণমূলক কাজগুলো এগিয়ে নেওয়া যায়, সেই লক্ষ্য থেকেই ফাউন্ডেশনটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে শস্যবীজ পৌঁছে দেওয়া, গ্রামের অসহায় ও শ্রমজীবী নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা এবং পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণের ধারাবাহিকতায় ঢাকায় কয়েক লাখ গাছ রোপণ করেছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সদস্য ও কর্মীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ফাউন্ডেশনটি একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। তবে প্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন সময়ে সংগঠনটিকে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত অনেক সদস্যকে নির্যাতনের শিকারও হতে হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘কাজ করতে চাইলে ইচ্ছাটাই সবচেয়ে বড় শক্তি।’
সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকে নিজেদের সম্পদ কেবল ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যয় করেন। অথচ সেই সম্পদের সামান্য অংশও যদি সমাজ, মানুষ, জীবজন্তু ও প্রকৃতির কল্যাণে ব্যয় করা হয়, তাহলে অনেক মানুষের জীবনে স্বস্তি ও আনন্দ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, ‘সব সময় অর্থটা মুখ্য বিষয় নয়। সবসময় সামর্থ্যও মুখ্য বিষয় নয়। সবচেয়ে মুখ্য বিষয় হচ্ছে ইচ্ছা, ইচ্ছা এবং ইচ্ছা।’
ফাউন্ডেশনের সদস্যদের মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রবল আগ্রহ রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, প্রত্যেকের লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। যত দিন সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকা যাবে, তত দিন মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করি মানুষের জন্য। কিন্তু রাজনীতির পাশাপাশি আপনি মানুষের জন্য কাজ করতে পারেন, সমাজের জন্য কাজ করতে পারেন। সেই কাজের ক্ষেত্র তৈরি করার জন্য আজ থেকে ২৭ বছর আগে আমরা জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম।’
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান।
পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকাণ্ডের ওপর একটি প্রামাণ্য ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সেলিমা রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এবং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

