Logo
Logo
×

জাতীয়

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমাদের সবার পরিচয় বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমাদের সবার পরিচয় বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সব নাগরিকের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রাষ্ট্র সবার, দেশও সবার। তাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সব মানুষকে বাংলাদেশি হিসেবে বিবেচনা করে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র সবার। এ দেশে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

সোমবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে তিনি পূজারিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার। আসুন আমরা সকলে মিলে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশটিকে গড়ি।’

ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নাগরিক পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘ধর্ম আলাদা হতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রটা আমাদের সকলের। বাংলাদেশ নামক যে রাষ্ট্র, এই রাষ্ট্রটি আমাদের সকলের। এই দেশটিতে আপনার যেমন অধিকার আছে, আমারও অধিকার আছে। এই দেশের প্রতি আপনার যেমন কর্তব্য আছে, আমারও এই দেশের প্রতি কর্তব্য আছে।’

রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও নাগরিকদের পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। একইভাবে নাগরিকদেরও একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং সম্মিলিতভাবে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সকলেই এই দেশের সন্তান, এই দেশের মানুষ, আমরা বাংলাদেশি। আমরা প্রত্যেকে মানুষ। সবার আগে এটিই হচ্ছে আমাদের পরিচয়। এখানে উপস্থিত আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশি।’

মুক্তিযুদ্ধ থেকে গণ-অভ্যুত্থান, ঐক্যই ছিল শক্তি

মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার জন্য দেশের মানুষ যখন যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তখন কেউ কারও ধর্মীয় পরিচয় জানতে চায়নি। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে স্বাধীনতার সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন।

তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র, রাজনৈতিক অধিকার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ রাজপথে নেমে এসেছে। সেসব আন্দোলনে কেউ কাউকে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিচার করেনি। সবাই মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রাম করেছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই আন্দোলনেও হাজার হাজার, লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। তখনও কেউ কারও ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাননি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছেন। অনেকে শহীদ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষ রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেদিন তো সব ধর্মের মানুষই ছিল। অনেকেই শহীদ হয়েছেন, আজকেই আমি ওসমানী উদ্যানে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করে এসেছি। সেখানে তো হিন্দু মানুষও আছে, মুসলমান মানুষও আছে, বৌদ্ধও আছে, খ্রিষ্টানও আছে। সকলেই তো সেদিন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আত্মত্যাগ করেছেন।’

মানুষের পরিচয় হোক মানুষ, ঐক্যবদ্ধভাবে গড়তে হবে দেশ

দেশের উন্নয়ন ও পরিবর্তনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশের পরিবর্তন হলে সব নাগরিকই উপকৃত হবেন। মানুষের ভালো থাকা কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয় কোনো বিষয় নয়।

তিনি বলেন, ‘যখন কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন যেমন দেখে না কোন ধর্মের মানুষ, যখন মানুষ ভালো থাকে, তখনো মানুষ দেখে না। শুধু দেখে আপনিও মানুষ, আমিও মানুষ।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আসুন, আমরা আমাদেরকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করি। বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমরা একে অপরকে চিনে ও জানি।’

শারদীয় দুর্গাপূজাকে আনন্দ ও সম্প্রীতির উৎসব হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান দেশের সব সনাতন ধর্মাবলম্বীকে শুভেচ্ছা জানান।

তিনি বলেন, ‘আজকে এই অনুষ্ঠানটি হচ্ছে একটি আনন্দের অনুষ্ঠান। আজকে এই অনুষ্ঠানটি হচ্ছে একটি মিলনমেলা।’

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক এ তথ্য জানান।

প্রধান সম্পাদক- আ.ত.ম. শামসুজ্জামান

ইশা ফাউন্ডেশন’র একটি প্রকাশনা

অনুসরণ করুন