তারেক রহমানের আগমন ঘিরে উৎসবের নগরী রাজশাহী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম
ছবি-সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে রাজশাহীতে। তাঁর প্রথম রাজশাহী সফর ঘিরে জনসভা ও পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত বিশাল জনসভায় বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নগরীর ধর্মসভা মন্দির পরিদর্শন করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তাঁকে একনজর দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন রাজশাহীর মানুষও।
সোমবার বিকেলে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ভূমিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু প্রধানমন্ত্রীর সফরের সর্বশেষ প্রস্তুতির কথা জানান।
তিনি বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে সফরের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হলেও রাজশাহীর মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা ও আবেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটিই প্রথম রাজশাহী সফর। ফলে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ সফর নিয়ে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
ভূমিমন্ত্রী জানান, উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে এবারের সফরে প্রধানমন্ত্রী আখচাষিদের জন্য বিশেষ বার্তা দেবেন।
তারেক রহমানের সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে তারেক রহমানের আগমন রাজশাহী অঞ্চলের মানুষের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে রাজশাহীর দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি ও প্রত্যাশা তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে—বীজ সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, রাজশাহী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা, কৃষিভিত্তিক রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠা, রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ ত্বরান্বিত করা এবং একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন। এ ছাড়া রাজশাহী শহরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শিক্ষা নগরী’ হিসেবে ঘোষণার দাবিও রয়েছে।
বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, শিল্পমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের উপস্থিতিতে রাজশাহীর উন্নয়ন-সংক্রান্ত এসব দাবি প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর জনসভা ঘিরে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সোমবার রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন এবং সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দান পরিদর্শন করেন।
এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলী, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ফয়জুল কবির, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন ও সফল করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। সব মিলিয়ে তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে রাজশাহীতে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

