Logo
Logo
×

জাতীয়

একনেকে ৫৮ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

Icon

সমাচার প্রতিদিন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম

একনেকে ৫৮ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

ছবি: পিএমও

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি নতুন কূপ খননের প্রকল্প রয়েছে। কূপ দুটি থেকে দৈনিক প্রায় ৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ষষ্ঠ একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে ১১টি নতুন এবং দুটি সংশোধিত। প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৫০ হাজার ৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৭৩ কোটি ৭ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সহায়তা হিসেবে ৭ হাজার ৯৭৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

সভা শেষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ নামে দুটি অনুসন্ধান ও উন্নয়ন কূপ খনন করা হবে। ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থেকে ৪১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকে ১৭৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেওয়া হবে। প্রকল্পের আওতায় দুটি কূপ খনন, পরামর্শক নিয়োগ এবং গ্যাস সংগ্রহের পাইপলাইন স্থাপন করা হবে।

প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, কূপ দুটি থেকে ১০ বছরে প্রায় ১০০ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ও ৬০ হাজার ৪৪৪ ব্যারেল কনডেনসেট পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি এলএনজি আমদানি কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হবে।

সরকার ২০৩১ সালের মধ্যে দেশের স্থলভাগে ১৫০টি কূপ খননের লক্ষ্য নিয়েছে। এরপর ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে আরও ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এ উদ্যোগের আওতায় তিতাসের নতুন কূপ দুটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

বিজিএফসিএল বর্তমানে পরিচালনাধীন ছয়টি গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যে পাঁচটি থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৮০ থেকে ৪৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে। এর মধ্যে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৩টি কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে।

এদিকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পাঁচটি প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ১ হাজার ২০৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের খাল পুনঃখনন ও নির্বাচিত পৌরসভায় স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে ৭৩০ কোটি ৬৬ লাখ টাকার প্রকল্প রয়েছে।

এ ছাড়া ৮৭ কোটি ৪০ লাখ টাকার জলবায়ু-সহনশীল নগর উন্নয়ন প্রকল্প, ২ হাজার ৫৬৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকার সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ৩ হাজার ৯৫১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ পুলিশের জন্য বিশেষায়িত ও অপারেশনাল যানবাহন কেনার দুটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঢাকা সেনানিবাসের মঈনুল রোড আবাসিক এলাকায় কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবন নির্মাণে ১৭৭ কোটি ১৯ লাখ টাকা এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাজধানীর জিগাতলার গাবতলা কলোনিতে সরকারি কর্মচারীদের বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণে ২০০ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে পাঁচটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস ইনস্টিটিউট স্থাপনে ৫৩৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৪১ হাজার ৯০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) অনুমোদন পেয়েছে।

অন্যদিকে, গ্রামীণ সড়কে ১৫ মিটার পর্যন্ত দৈর্ঘ্যের সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনীতে ৫২৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এদিন একনেক সভায় ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের আরও পাঁচটি প্রকল্প পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে দিনাজপুরের জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার আধুনিকায়ন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিত করা, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়ন, ঢাকা কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের আধুনিকায়ন এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন।

সভায় মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবেরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান সম্পাদক- আ.ত.ম. শামসুজ্জামান

ইশা ফাউন্ডেশন’র একটি প্রকাশনা

অনুসরণ করুন