Logo
Logo
×

জাতীয়

দ্রুত নতুন মজুরি বাস্তবায়নের আশ্বাস পোশাকশিল্প মালিকদের

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০০ পিএম

দ্রুত নতুন মজুরি বাস্তবায়নের আশ্বাস পোশাকশিল্প মালিকদের

প্রতীকী ছবি

তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারা। একই সঙ্গে চলমান আন্দোলন-বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে শ্রমিকদের কাজে ফেরার এবং শিল্পাঞ্চলে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

আজ রাজধানীর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।

সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা জানান, নবগঠিত ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মজুরি পুনর্বিবেচনার কাজ শেষ করতে সভায় সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। বোর্ডের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মালিকপক্ষ নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন করবে।

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের মাত্র তিন দিনের মধ্যে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ৯ নভেম্বর দ্বিতীয় সভার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। শ্রমিকদের দাবি নিষ্পত্তিতে এটি সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের প্রতিফলন।

তিনি বলেন, শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে শ্রমিক, পোশাকশিল্প ও জাতীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই শ্রমিকদের আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে দাবি আদায়ের প্রক্রিয়ায় আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

পোশাকশিল্পের নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, কোনো কোনো স্বার্থান্বেষী মহল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। এতে আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের দাবি নিষ্পত্তির উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এদিকে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকারের কাছে কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছে বিকেএমইএ। এর মধ্যে রয়েছে শিল্পাঞ্চলে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর করা, যাতে মজুরি বৃদ্ধির সুযোগে বাড়ির মালিকেরা ইচ্ছামতো ভাড়া বাড়াতে না পারেন।

এ ছাড়া পোশাকশ্রমিকদের জন্য রেশনিং সুবিধা বা ফ্যামিলি কার্ড চালু, সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন এবং প্রধান শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের জন্য আবাসন বা ডরমিটরি নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

নেতারা বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা এবং মজুরি-সংক্রান্ত সমস্যার টেকসই সমাধানে সরকার, মালিকপক্ষ ও দায়িত্বশীল শ্রমিক সংগঠনগুলো সম্মিলিতভাবে কাজ করছে।

তাঁরা শ্রমিকদের ধৈর্য ধরার, মজুরি বোর্ডের কার্যক্রমের ওপর আস্থা রাখার এবং উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। তাঁদের মতে, শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকলে মজুরি বোর্ড নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারবে। এতে শ্রমিক, মালিক ও জাতীয় অর্থনীতি—সব পক্ষই উপকৃত হবে।

প্রধান সম্পাদক- আ.ত.ম. শামসুজ্জামান

ইশা ফাউন্ডেশন’র একটি প্রকাশনা

অনুসরণ করুন