Logo
Logo
×

জাতীয়

সকল ধর্মাবলম্বীর অংশগ্রহণে মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই: ডেপুটি স্পিকার

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম

সকল ধর্মাবলম্বীর অংশগ্রহণে মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই: ডেপুটি স্পিকার

ছবি-সংগৃহীত

সকল ধর্ম, বর্ণ, জাতি ও গোষ্ঠীর মানুষের সমান অধিকার ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চায় সরকার বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, পাহাড়-সমতল, জাতি-গোষ্ঠী কিংবা ধর্মীয় পরিচয় কোনো বিভাজনের কারণ হতে পারে না। আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক, আমাদের পরিচয় বাংলাদেশি।

শুক্রবার রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত ‘ঢাকা ওয়ানগালা-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, সকলের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করে সাম্য, স্বাধীনতা ও মানবিক মর্যাদাভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার কাজ করছে। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও সুপ্রতিষ্ঠিত করতে দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে এ বছরের দুর্গাপূজা ছিল অত্যন্ত উৎসবমুখর। এর অন্যতম কারণ দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসা। বর্তমানে জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আইনি ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত হওয়ায় মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় স্বাধীনতা উপভোগ করতে পারছে।

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে কায়সার কামাল বলেন, দেশের বিভিন্ন শ্রেণি ও গোষ্ঠীকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে তিনি ১০টি কালচারাল একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এর মধ্যে নেত্রকোনার দুর্গাপুরেও একটি কালচারাল একাডেমি রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, সরকার কালচারাল একাডেমিগুলোর কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করতে চায়। এ সময় ‘ঢাকা ওয়ানগালা-২০২৬’-এর আয়োজকদের আশ্বস্ত করে তিনি জানান, বনানী এলাকায় একটি কালচারাল একাডেমি ও একটি গির্জা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ শিগগিরই নেওয়া হবে।

আসন্ন বড়দিন উদযাপন প্রসঙ্গে ডেপুটি স্পিকার বলেন, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে উৎসব উদযাপনের জন্য ২ কোটি টাকা অনুদান চাওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তাদের আবেদনের চেয়ে ১ কোটি টাকা বেশি, অর্থাৎ ৩ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে কায়সার কামাল বলেন, বাংলাদেশ এমন নেতৃত্ব প্রত্যাশা করে, যারা সব ধর্মের মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল থাকবেন এবং প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করবেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘ঢাকা ওয়ানগালা-২০২৬’-এর নকমা জন দ্রং। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ঢাকা ওয়ানগালার সাবেক নকমা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক দীপঙ্কর রিছিল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর সাদাত, বাংলাদেশে ইউনেস্কোর আবাসিক প্রতিনিধি ড. সুজান ভাইজ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আন্দ্রিয় দ্রং, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির প্রিন্সিপাল অ্যাডভাইজার অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল কবিরসহ অন্য অতিথিরা।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রেজাউর রহমান ফাহিম, বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. মশিউর রহমান, ঢাকা কর অঞ্চল-৩-এর যুগ্ম কর কমিশনার কর্ণেলিউস কামা, নয়ানগর ক্রিশ্চিয়ান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের সভাপতি রিপন রিচার্ড সরদার, দ্য ক্রিশ্চিয়ান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট মাইকেল গোমেজ এবং গুড নেইবারস বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড বার্টিন গোমেজ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান সম্পাদক- আ.ত.ম. শামসুজ্জামান

ইশা ফাউন্ডেশন’র একটি প্রকাশনা

অনুসরণ করুন