Logo
Logo
×

খেলা

দুই দিনেই ইনিংস ব্যবধানে হার বাংলাদেশের

Icon

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৫ এএম

দুই দিনেই ইনিংস ব্যবধানে হার বাংলাদেশের

ছবি-সংগৃহীত

ডারউইনের ঐতিহাসিক জয়ের পর ম্যাকাইয়ে যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাংলাদেশকে দেখা গেল। প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের হারিয়ে ইতিহাস গড়া বাংলাদেশ দ্বিতীয় টেস্টে দুই দিনও টিকতে পারল না। গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এরেনায় অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইনিংস ও ৫১ রানের বড় ব্যবধানে হেরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে বাংলাদেশ।

ব্যাট হাতে পুরো ম্যাচেই অসহায় ছিল সফরকারীরা। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেনি বাংলাদেশ। দ্বিতীয়বার তাদের ইনিংস গুটিয়ে যায় ৯৫ রানে। দীর্ঘ সময় পর কোনো দল টেস্টে দুই ইনিংসেই একশ রানের নিচে অলআউট হওয়ার ঘটনা ঘটল।

বাংলাদেশের হতাশার ম্যাচেও বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন শরিফুল ইসলাম। বাংলাদেশি পেসার হিসেবে ইনিংসে নিজের সেরা বোলিং করে ৪৮ রানে ৭ উইকেট নেন তিনি।

দ্বিতীয় দিনের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া ৮ উইকেটে ১৬৫ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে। দিনের অষ্টম ওভারে সেট ব্যাটার ক্যামেরন গ্রিনকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন শরিফুল। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিউ নিয়ে সফল হয় বাংলাদেশ। ১০৫ বলে ১০ চার মেরে ৬৭ রান করে ফেরেন গ্রিন।

পরে নাথান লায়ন ও জশ হ্যাজেলউডের জুটিতে ব্যবধান আরও বাড়ে। শেষ পর্যন্ত ২১০ রানে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস গুটিয়ে দিলে ১৪৬ রানের লিড পায় স্বাগতিকরা। লায়ন ৩২ রানে অপরাজিত ছিলেন।

জয়ের জন্য বিশাল লক্ষ্য না থাকলেও দ্বিতীয় ইনিংসে শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণের সামনে ভেঙে পড়ে বাংলাদেশ। মিচেল স্টার্কের তোপে তৃতীয় ওভারেই দুই উইকেট হারায় সফরকারীরা। সাদমান ইসলাম ১ রান করে এবং মুমিনুল হক কোনো রান না করেই ফেরেন।

অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা আগ্রাসী ব্যাটিং করে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে অন্য প্রান্তে দ্রুত উইকেট পড়তে থাকায় সেই চেষ্টা বেশিদূর এগোয়নি। প্রথম সেশন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ৩৯ রান।

দ্বিতীয় সেশনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। মাত্র ৩১ রানের ব্যবধানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ৮২ রানেই ৮ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। শান্ত, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, হাসান মাহমুদ ও তাইজুল ইসলাম দ্রুত সাজঘরে ফেরেন। লিটন টানা তৃতীয় ইনিংসে শূন্য রানে আউট হন।

শেষ দিকে মুশফিকুর রহিম কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও দলকে ইনিংস পরাজয় থেকে বাঁচাতে পারেননি। চা বিরতির পর মাত্র তিন বল টিকে ছিল বাংলাদেশের ইনিংস। শেষ পর্যন্ত ৯৫ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা। মুশফিক ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন। নাথান লায়ন শেষ দুই উইকেট তুলে অস্ট্রেলিয়ার জয় নিশ্চিত করেন।

মাত্র দুই দিনেই শেষ হওয়া এই ম্যাচ ক্রিকেট ইতিহাসেও জায়গা করে নিয়েছে। ১৯৩২ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটি সবচেয়ে কম বলের টেস্ট ম্যাচ। পুরো ম্যাচে খেলা হয়েছে মাত্র ৭৫০ বল। সর্বকালের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত টেস্ট ম্যাচের তালিকায় এটি চতুর্থ স্থানে রয়েছে।

ডারউইনে ইতিহাস গড়ার পর ম্যাকাইয়ে এমন অসহায় আত্মসমর্পণ বাংলাদেশের জন্য বড় হতাশার। তবে সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাওয়া ঐতিহাসিক জয়ের সুবাদে শেষ পর্যন্ত ১-১ সমতায় সিরিজ শেষ করতে পেরেছে টাইগাররা।

প্রধান সম্পাদক- আ.ত.ম. শামসুজ্জামান

ইশা ফাউন্ডেশন’র একটি প্রকাশনা

অনুসরণ করুন