Logo
Logo
×

খেলা

পাকিস্তান ক্রিকেট ধ্বংসের মূল কারণ ২০০৯ সালের জঙ্গি হামলা: আকিব জাভেদ

Icon

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম

পাকিস্তান ক্রিকেট ধ্বংসের মূল কারণ ২০০৯ সালের জঙ্গি হামলা: আকিব জাভেদ

ছবি-সংগৃহীত

ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময় পার করছে পাকিস্তান ক্রিকেট। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে হেরে ইতোমধ্যে সিরিজ খুইয়েছে পাকিস্তান। দলের এমন ভরাডুবির মধ্যে একাধিক সিনিয়র ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়া এবং কোচিং স্টাফে আকস্মিক পরিবর্তন নিয়েও চলছে তীব্র সমালোচনা। পাকিস্তান ক্রিকেটের বর্তমান সংকটের পেছনে ২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলাকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন দেশটির জাতীয় নির্বাচক আকিব জাভেদ।

২০০৯ সালের মার্চে লাহোরে শ্রীলঙ্কা দলের বাসে সশস্ত্র হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। ওই ঘটনায় ছয় পুলিশ সদস্য নিহত হন। আহত হন কুমার সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়বর্ধনে ও থিলান সামারাবীরাসহ কয়েকজন শীর্ষ ক্রিকেটার ও কর্মকর্তা। এরপর পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। নিরাপত্তাজনিত কারণে দীর্ঘদিন সংযুক্ত আরব আমিরাতকে নিজেদের ‘হোম ভেন্যু’ হিসেবে ব্যবহার করতে হয় পাকিস্তানকে।

আকিব জাভেদের মতে, এই পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়েছে পাকিস্তানের ক্রিকেট অবকাঠামো ও খেলোয়াড় তৈরির প্রক্রিয়ায়।

তিনি বলেন, পাকিস্তান ক্রিকেটের পতন রাতারাতি হয়নি। বছরের পর বছর ক্রিকেটার তৈরির প্রক্রিয়াকে অবহেলা করার ফল এখন ভোগ করতে হচ্ছে। ২০০৯ সালের হামলার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলে যাওয়ায় জাতীয় একাডেমি, প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও মাঠগুলো দীর্ঘ সময় স্থবির হয়ে পড়ে। প্রায় ১৫ বছর অবকাঠামোগত উন্নয়নও তেমন হয়নি।

শুধু অবকাঠামোগত সংকট নয়, পাকিস্তানের টেস্ট ক্রিকেটের দুর্দশার জন্য বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোকেও দায়ী করেছেন আকিব। তার মতে, অর্থ ও গ্ল্যামারের কারণে ক্রিকেটারদের অগ্রাধিকার বদলে যাচ্ছে।

আকিব বলেন, টি-টোয়েন্টি লিগের হাতছানি লাল বলের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ক্ষতি করেছে। প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেটারদেরও নিয়মিত প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলা উচিত। জাতীয় দলের মান ধরে রাখতে এটি গুরুত্বপূর্ণ।

পরিস্থিতি বদলাতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তিতে প্রথম শ্রেণির চার দিনের ক্রিকেট খেলা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আকিবের ভাষায়, শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটারদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই ঠিক করতে হবে—তারা টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের সেরাটা দিতে চান, নাকি শুধু টি-টোয়েন্টি খেলেই সময় কাটাতে চান।

প্রধান সম্পাদক- আ.ত.ম. শামসুজ্জামান

ইশা ফাউন্ডেশন’র একটি প্রকাশনা

অনুসরণ করুন