হচ্ছে না বিপিএল, নতুন টুর্নামেন্টের পথে বিসিবি
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম
ছবি-সংগৃহীত
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, পারিশ্রমিক জটিলতা ও নানা বিতর্কের মধ্যেই এবার থমকে যাচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি আসর। নতুন আঙ্গিকে বিপিএল আয়োজনের কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত আগামী আসর মাঠে না গড়ানোর সিদ্ধান্তই বাস্তব হতে যাচ্ছে।
বিপিএল না হওয়ায় সবচেয়ে বড় আর্থিক ধাক্কায় পড়বেন ঘরোয়া ক্রিকেটাররা। কারণ, বিপিএলকে ঘিরে দেশের অনেক ক্রিকেটারের মৌসুমি আয়ের বড় একটি অংশ নির্ভর করে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ক্রিকেটারদের প্রতিনিধিরা বিসিবির সঙ্গে দুই দফা বৈঠকও করেছেন।
বৃহস্পতিবার বিসিবির কমিটির বৈঠক শেষে এ বিষয়ে কথা বলেন সভাপতি তামিম ইকবাল। তিনি জানান, শুধু সীমিতসংখ্যক ক্রিকেটার নয়, ঘরোয়া ক্রিকেটের বৃহত্তর পরিসরে সুযোগ ও ম্যাচ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
তামিম বলেন, নতুন করে চার দিনের ম্যাচে ক্রিকেটাররা পাবেন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ওয়ানডেতে ১ লাখ এবং টি-টোয়েন্টিতে ৮০ হাজার টাকা পারিশ্রমিক নির্ধারণের কথা জানানো হয়েছে।
নারী ক্রিকেটেও ম্যাচ ও পারিশ্রমিক বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিন দিনের ম্যাচকে চার দিনে উন্নীত করার পাশাপাশি চার দিনের ম্যাচে পারিশ্রমিক ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৪০ হাজার টাকা করা হচ্ছে। ওয়ানডেতে ৩০ হাজার এবং টি-টোয়েন্টিতে ২০ হাজার টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিপিএল না হওয়ায় ঘরোয়া ক্রিকেটের ব্যস্ততা ধরে রাখতে জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) টি-টোয়েন্টিকে আরও জমকালোভাবে আয়োজনের পরিকল্পনা করছে বিসিবি। তবে এনসিএল টি-টোয়েন্টি নামে নয়, ভিন্ন নামে নতুন টুর্নামেন্ট আয়োজনের চিন্তা করছে বোর্ড।
প্রস্তাবিত টুর্নামেন্টটির নাম হতে পারে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। এই আসরে থাকবে না প্রচলিত বিভাগভিত্তিক দল। ছয়টি দল নিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
প্রতিটি দল কোনো প্রতিষ্ঠান কিনে নিতে পারবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী দলের নাম নির্ধারণ করতে পারবে। ফলে প্রচলিত বিভাগীয় কাঠামোর বাইরে গিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক একটি ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি আয়োজনের নতুন মডেল দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে বিসিবি।
বিপিএল বন্ধ হয়ে যাওয়ার শূন্যতা কতটা পূরণ করতে পারবে নতুন এই আয়োজন, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে বিসিবির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ—ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা ধরে রাখার পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটারদের ম্যাচ ও আয়ের সুযোগ বাড়ানো।

